খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

যশোর বোর্ডে ফেল ৫৫ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫

মোঃ শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
যশোর বোর্ডে ফেল ৫৫ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৯৫।
ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে পাসের হার কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এটিকে ফল বিপর্যয় বলতে নারাজ শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ফলাফল বিপর্যয় নয়; এটি সঠিক মূল্যায়নের প্রতিফলন। আমরা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছি।’
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৭০টি কলেজের ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। সে হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ পয়েন্ট।
ফল খারাপ হওয়ার কারণ সম্পর্কে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বেড়েছে। এটি খারাপ ফলের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া নির্বাচনী পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষার মধ্যে প্রায় তিন মাসের ব্যবধান থাকায় এ সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঢিলেমি আসে। দুই পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময় কমানো গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফল এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
যশোর সদর উপজেলার আল হেরা ডিগ্রি কলেজ থেকেও এবার আশানুরূপ ফল আসেনি। কলেজটি থেকে ৪১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে কম নম্বর পাওয়ায় বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। মফস্‌সলের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়ার উপযোগী শিক্ষার্থী ভর্তি কম হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার বাড়ায় তাঁরা ফলাফলকে বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না।
এদিকে এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করা এবং শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া—উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। এবার তিনটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ১৬টি, গত বছর যা ছিল ২০টি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামীকাল রোববার থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে আবেদন করা যাবে।

সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

“নতুন পথে প্রত্যাবর্তন”স্লোগানে সিরাজগঞ্জে সর্বহারা চরমপন্থী সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার এসআরবি-১২ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার মোট ৬৫ জন চরমপন্থী অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন, পাবনা জেলার ৪৫ জন এবং রাজবাড়ী জেলার ১৩ জন রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মোঃআহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃআশিক সাঈদ, পিপিএম।

অনুষ্ঠানে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন,চরমপন্থার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ। আত্মসমর্পণকারীদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হবে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরাধের পথ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ এসআরবি ফোর্সেসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।