মসজিদের ভেতরে সন্ত্রাসী হামলা: গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম আইসিইউতে
খুলনা দৌলতপুর ওজোপাডিকো ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২ এর জামে মসজিদে, গত ১৪/৫/২০২৬ ইং তারিখ ফজরের নামাজের পরে শেখ লোকমান হাকিম পিতা মৃত আব্দুল জব্বার ও আলমকে সন্ত্রাসীরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সি সি ক্যামেরা ফুটেজে একই সময়ে একটি মোটর বাইকে করে তিন জনকে মুখ বাঁধা অবস্থায় মসজিদের সম্মুখ হতে খুলনার দিকে যেতে দেখা যায়।
আবার একই সময়ে উক্ত মোটর বাইকটি বিদ্যুৎ জামে মসজিদের দুইজন মুসল্লিকে এলোপাথাড়ি গুলি করে ব্রজলাল কলেজের রোড ধরে যেতে দেখা যায়।

জানা যায় ১৪/৬/২০২৬ আনুমানিক ভোর ছয়ঘটিকার সময় দৌলতপুর পশ্চিম কাশিপুর বিএল কলেজ রোড সংলগ্ন ৭ নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা শেখ লোকমান হাকিম পিতা মৃত আব্দুল জব্বার ফজরের নামাজের পর আল কোরআন তেলওয়াত কালে তিন সদস্য বিশিষ্ট একদল সন্ত্রাস, মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করে বিদ্যুৎ জামে মসজিদের সেক্রেটারি লোকমান হেকিম কে লক্ষ্য করে এলো পাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে প্রথম গুলিটি লোকমান হাকিমের মাথার বাম পাশ বরাবর লেগে বের হয়ে যায়।
পরবর্তী দ্বিতীয় গুলিটি বাম হাতের পিছন বরাবর, তৃতীয় গুলিটি পেট বরাবর, এবং চতুর্থ গুলিটি পা বরাবর পঞ্চম গুলিটি বাহু বরাবর আঘাত করে,
এ সময় সন্ত্রাসীরা মোট সাত রাউন্ড গুলি করে দুইজন মুসল্লির উপরে।
গুলি বিদ্ধ লোকমান হাকিম মসজিদের ফ্লোরেই অচেতন হয়ে পড়ে যায়।
একই সময় পাশে থাকা আলম নামের আরেকজন মুসল্লিকে সন্ত্রাসীরা হাত এবং কণ্ঠ বরাবর গুলি বিদ্ধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন লোকমান হাকিমকে পার্শ্ববর্তী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রেরণ করে, এবং আলম নামের আর এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মসজিদ থেকে নিজ বের হয়ে তার স্বজনদের কাছে গেলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এবং একটি সময়ে আলমের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকরা।
বিদ্যুৎ মসজিদের সেক্রেটারি লোকমান হাকিম কে কেন গুলি করা হয়েছে সুনিদৃষ্ট করে পুলিশ তদন্তে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে এলাকার সূত্রে জানা গেছে লোকমান হাকিম স্থানীয়ভাবে একজন জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার, একই সাথে ওজপাডিকোর ঠিকাদারেরও কাজ করে থাকে।
লোকমান হাকিমকে ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে গুলি করার কারণ থাকতে পারে ভিন্ন, ভিন্ন যার মধ্য ব্যবসায়ী দ্বন্দ্ব, পূর্ব শত্রুতার জের, এবং মসজিদের আধিপত্য বিস্তার ও কমিটি সংক্রান্ত দ্বন্দে পূর্বপরিকল্পিত কিলিন টার্গেটে যোগ দিয়েছিল ভাড়াটিয়া খুনিরা।

সন্ত্রাসী আক্রমণের পর গুরুতর আহত লোকমান হাকিমকে তার পরিবারের লোকজন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করলে, গুলিবিদ্ধ শরীরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত গুলি বিদ্ধ লোকমান কে এভার কেয়ারের আই সি ইউ তে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লোকমান হাকিমের ভাই শেখ জহুরুল ইসলাম প্রফেসর ব্রজলাল কলেজ দৌলতপুর।
তবে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে কুলিবাগান থানা, উক্ত ঘটনায় আসামেদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অভ্যত রেখেছে।



আপনার মতামত লিখুন