খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

অস্তিত্বে অস্তিমান আল মুজাহিদী: কবিতা, মৃত্তিকা ও মানুষের অনন্য কবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
অস্তিত্বে অস্তিমান আল মুজাহিদী: কবিতা, মৃত্তিকা ও মানুষের অনন্য কবি

— অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন

বাংলাদেশের কবিতার আকাশে যে ক’জন কবি নিজস্ব দীপ্তিতে আলোকিত হয়ে আছেন, আল মুজাহিদী তাঁদের অন্যতম। তিনি শুধু একজন কবি ছিলেন না; ছিলেন শব্দের কারিগর, ইতিহাসের সচেতন দ্রষ্টা এবং মৃত্তিকার গভীর প্রেমিক। ২০২৬ সালের ১৯ জুন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনাবসান ঘটলেও তাঁর কবিতা আজও অগ্নিদীপ্ত চেতনায় জাগ্রত।

জন্ম থেকে জ্ঞানসাধনার পথে

১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। তাঁর পিতা আবদুল হালিম জামালী এবং মাতা সাখিনা খান। শৈশবের গ্রামীণ প্রকৃতি, মেঠোপথ, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও পিতৃভূমির আবেগ পরবর্তী সময়ে তাঁর কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।

১৯৫৮ সালে ভিক্টোরিয়া হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৬০ সালে করটিয়া সাদত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে সমাজবিজ্ঞানে এবং ১৯৬৭ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭৩ সালের ২ জুলাই পলিন পারভীনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সাহিত্য ও সংসার—দুই ক্ষেত্রেই তিনি সমান দক্ষতায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার জগৎ

কর্মজীবনের শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে। দৈনিক ইত্তেফাক-এ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় সাহিত্য সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তিনি দৈনিক যায়যায়দিন-এ সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসংখ্য নবীন কবি ও লেখককে সাহিত্যের মূলধারায় নিয়ে আসেন। সাহিত্যমান রক্ষা এবং নতুন প্রতিভা বিকাশে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

মৃত্তিকার কবি, প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর

আল মুজাহিদীর কবিতার কেন্দ্রে ছিল মানুষ, মাটি এবং মাতৃভূমি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যপঙ্‌ক্তি—

“হে আমার অগ্নিদ্রোহী মৃত্তিকা, তুমি চিরকাল মুক্ত থাকো… পিতৃভূমি, হে আমার পিতৃভূমি, তোমার অস্তিত্ব এবং অস্তিত্বের সমগ্রতায় আমি অস্তিমান।”

— আমার মৃত্তিকা এবং মৃত্তিকাবাসী

তাঁর কবিতায় যেমন দেশজ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের ছাপ রয়েছে, তেমনি গ্রিক পুরাণ, বিশ্বসাহিত্য ও আধুনিক কল্পচেতনারও সমাবেশ ঘটেছে। হেমলক, টেরাকোটা, ল্যাবিরিন্থ, অ্যাকাডেমাস প্রভৃতি প্রতীক ও উপমা তিনি বাংলার কাব্যভাষায় সার্থকভাবে রূপান্তরিত করেছেন।

বহুমাত্রিক সাহিত্যসাধনা

আল মুজাহিদীর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা অর্ধশতাধিক। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি, ভঙ্গুর গোলাপ এবং সৌর জোনাকি।

উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, লাল বাতির হরিণ এবং খোকার যুদ্ধ।

ছোটগল্প, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ ও অনুবাদেও তিনি ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ। কাইফি আজমি, আহমদ ফরাজ এবং হাইনরিশ হাইনের কবিতা বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে তিনি বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলা পাঠকের পরিচয়ের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি লাভ করেন জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং বাসপ কাব্যরত্ন পদক (২০১৮)।

২০২৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রদত্ত কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কারেও তিনি সম্মানিত হন।

শেষ দিনগুলো ও চিরবিদায়

জীবনের শেষদিকে তিনি দীর্ঘদিন কিডনি ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। হৃদযন্ত্রে দুবার রিং পরানো হয়েছিল। ২০২৫ সালে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

২০২৬ সালের ১৫ জুন তাঁকে শেষবারের মতো ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ১৯ জুন শুক্রবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

তিনি স্ত্রী পলিন পারভীন, ছেলে শাবিব আল মুজাহিদী, মেয়ে মারিয়ামা জাবীন আল মুজাহিদী, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টর মসজিদ, জাতীয় প্রেসক্লাব এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উপসংহার: অস্তিত্বে অস্তিমান

আল মুজাহিদী ছিলেন সত্যিকার অর্থেই অনন্য। তিনি শুধু কবিতা রচনা করেননি; কবিতার জন্য বেঁচেছেন, কবিতার মধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল—পিতৃভূমির অস্তিত্বের মধ্যেই কবির অস্তিত্ব নিহিত।

আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর ‘অগ্নিদ্রোহী মৃত্তিকা’ রয়ে গেছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন আল মুজাহিদী বেঁচে থাকবেন তাঁর কবিতায়, আমাদের চেতনায় এবং এই বাংলার মাটিতে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।