খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ইমেরিটাস অধ্যাপক সম্মান কেড়ে নেওয়ার নজির কোথাও নেই

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
ইমেরিটাস অধ্যাপক সম্মান কেড়ে নেওয়ার নজির কোথাও নেই

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৫০ বছরের সেবার স্বীকৃতি কেড়ে নেয়া – এটা কি শুধু একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি জাতির বিবেকের কাছে একটা প্রশ্ন? বিএসএমএমইউর সিদ্ধান্তে একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস পদ বাতিল আর বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ দিয়ে দেশের একাডেমিক অঙ্গনে যে ঝড় উঠেছে, তার আইনি-নৈতিক বিশ্লেষণ জরুরি। কারণ এখানে প্রশ্ন শুধু একজনের সম্মানের না, প্রশ্ন হলো – রাষ্ট্র কি তার সর্বোচ্চ সন্তানদের সাথে এমন করতে পারে?

 

*ইমেরিটাস অধ্যাপক কি?*

 

“Emeritus” ল্যাটিন শব্দ। অর্থ “যিনি সেবা করে যোগ্যতা অর্জন করেছেন”। বিশ্ববিদ্যালয় জগতে ইমেরিটাস প্রফেসর হলেন সেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক যিনি দীর্ঘদিন শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রেখেছেন।

 

*মূল বৈশিষ্ট্য ৩টা:*

1. *এটা চাকরি না, সম্মান*: অবসরের পর দেয়া হয়। তাই “টার্মিনেশন” বা “ডিসমিসাল” এর আইন এখানে খাটে না।

2. *আজীবন উপাধি*: একবার দিলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকে। হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, ঢাবি – সবখানেই রীতি একই।

3. *সুযোগ-সুবিধা সীমিত*: পূর্ণ বেতন না। লাইব্রেরি, অফিস, গবেষণা সহায়তা, সেমিনারে অংশগ্রহণ, PhD গাইড করার রাইট পান। সাথে মাসিক সম্মানী/অনারারিয়াম।

 

বিএসএমএমইউ আইন, ১৯৯৮ এর ধারা ২৩ অনুযায়ী সিন্ডিকেট ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ দিতে পারে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের “সর্বোচ্চ সম্মান”।

 

*এমিরেটস প্রাপ্যের যোগ্যতা:*

 

UGC ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ নিয়ম:

1. ন্যূনতম ২৫-৩০ বছর শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা

2. আন্তর্জাতিক মানের পাবলিকেশন, বই, থিস গাইড

3. জাতীয়-আন্তর্জাতিক পুরস্কার/স্বীকৃতি

4. অবসরের পরও একাডেমিক কাজে যুক্ত থাকার মানসিকতা

5. বিভাগ, ফ্যাকাল্টি ও একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন

 

*কি পাবেন:*

1. *উপাধি*: নামের আগে “Professor Emeritus” লেখার অধিকার

2. *সম্মানী*: মূল বেতনের ৫০-৭৫% হারে মাসিক ভাতা। বিএসএমএমইউতে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা

3. *অফিস ও স্টাফ*: ছোট অফিস, একজন PA

4. *একাডেমিক রাইট*: PhD সুপারভিশন, গবেষণা প্রজেক্ট, কনভোকেশনে বসার অধিকার

5. *চিকিৎসা সুবিধা*: বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ফ্রি ট্রিটমেন্ট

 

মনে রাখতে হবে: এটা “পেনশন” না। এটা “স্বীকৃতি ভাতা”। যেমন বীরশ্রেষ্ঠরা ভাতা পান, নোবেল বিজয়ীরা রয়্যালটি পান।

 

*ডা: আবদুল্লাহর নিয়োগ*

 

১) *৩১ জানুয়ারি ২০২২*: বিএসএমএমইউ সিন্ডিকেট উনাকে ৩ বছরের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ দেয়।

২) *২৮ মে ২০২৪*: ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় “আলোচ্যসূচির বাইরে” এক সদস্যের প্রস্তাবে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে উনাকে “আজীবন মেয়াদে” ইমেরিটাস করা হয়। উপাচার্য ডা. দীন মো. নূরুল হক স্বয়ং সনদ তুলে দেন শহীদ ডা. মিল্টন হলে। উপস্থিত ছিলেন সব প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার, ডিন।

 

*নতুন সিদ্ধান্তের টাইমলাইন:*

 

*২৫ জুন ২০২৬*: রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয় – ২০২৪ এর ২০ জুনের সিদ্ধান্ত “বিধিবহির্ভূত”। তাই আজীবন নিয়োগ বাতিল ও ২০ জুন ২০২৪ থেকে উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ ২ বছর সম্মান দিয়ে, ২ বছরের ভাতা ফেরত চাওয়া।

 

*অকল্পিত সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি যুক্তি:*

1. *প্রসিডিউরাল ত্রুটি*: “আলোচ্যসূচির বাইরে” প্রস্তাব আনা হইছে। অধ্যাদেশ সংশোধন + নিয়োগ একই দিনে।

2. *অধ্যাদেশ লঙ্ঘন*: বিএসএমএমইউর ইমেরিটাস অধ্যাদেশে “আজীবন” শব্দ নাই। সর্বোচ্চ ৩ বছর ও ১ বার নবায়নযোগ্য।

3. *রেট্রোস্পেকটিভ বাতিল*: ভুল সিদ্ধান্ত হলে শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য।

 

*আইনি-নৈতিক পাল্টা যুক্তি:*

1. *সিন্ডিকেটের ক্ষমতা*: বিএসএমএমইউ আইন ধারা ১৭(২) অনুযায়ী সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের “সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম”। তারা অধ্যাদেশ সংশোধন করতে পারে। “আলোচ্যসূচির বাইরে” প্রস্তাব আনা সিন্ডিকেটের ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে। সারা দুনিয়ায় বোর্ড মিটিং-এ “Any Other Matter” থাকে।

2. *Estoppel নীতি*: ২ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই উনাকে ইমেরিটাস হিসেবে ট্রিট করছে। সনদ দিছে, ভাতা দিছে, অফিস দিছে। এখন “আমরা ভুল করছি” বললে সেটা “Promissory Estoppel” এর লঙ্ঘন। আইন বলে – নিজের ভুলের খেসারত অন্যকে দেয়া যায় না।

3. *Natural Justice লঙ্ঘন*: উনাকে শুনানি ছাড়া, কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়া পদ কেড়ে নেয়া হইছে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ – “আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার” লঙ্ঘিত।

4. *Retrospective Punishment*: সংবিধানের ৩৫(১) অনুচ্ছেদ – “পূর্ববর্তী তারিখ থেকে কার্যকর দণ্ড দেয়া যাবে না”। ২০২৪ এর ভাতা ২০২৬ এ ফেরত চাওয়া দণ্ডের শামিল।

 

*☆ দেশে বিদেশে সম্মান কেড়ে নেয়ার নজির নেই।*

 

*বাংলাদেশ:*

1. *ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়*: জাতীয় অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. আনিসুজ্জামান – উনারা মৃত্যু পর্যন্ত ইমেরিটাস ছিলেন। কারো পদ কাড়া হয় নাই।

2. *বুয়েট*: প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী আজীবন ইমেরিটাস।

3.*বিএসএমএমইউ*: বিএসএমএমইউ নিজেই প্রথম ইমেরিটাস দিলো ডা. আবদুল্লাহকে। এখন প্রথম কেড়েও নিল। বাংলাদেশে এটাই প্রথম ও একমাত্র কেস।

 

*ভারত:*

1. *সুপ্রিম কোর্ট রায় – C. Rajendran vs University of Calicut, 2023*: অবসরের বয়স পার হলেও যদি একাডেমিক ইয়ার শেষ করতে দেয়া হয়, তাইলে বেতন ফেরত চাওয়া যাবে না। কোর্ট বলছে “no recovery shall be effected”। বরং 6.5% সুদসহ বেতন দিতে হবে

2. *দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়*: পদ্মবিভূষণ ড. ইউ.আর. রাও, ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম – উনারা মৃত্যু পর্যন্ত ইমেরিটাস ছিলেন।

 

*যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র:*

1. *হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল*: ইমেরিটাস নিয়োগের জন্য ৪ ধাপের প্রসিডিউর আছে। কিন্তু একবার University approve করলে “revoke” করার ধারা নাই

2. *টাফ্টস ইউনিভার্সিটি কেস, 2024*: টেনিউরড প্রফেসরের বেতন 50% কমানোর চেষ্টা করছিল। Massachusetts Supreme Court বলছে “Tenure would seem to be a hollow promise if it came without any salary commitment”। মানে সম্মান = অর্থনৈতিক নিরাপত্তা

3. *অক্সফোর্ড*: Emeritus Fellow পদ কেউ হারায় নাই। নোবেল বিজয়ী স্যার পিটার মেডাওয়ার মৃত্যু পর্যন্ত ছিলেন।

 

*ফিলিপাইন:*

*Wenphil Doctrine, 1983*: ইলিগ্যাল ডিসমিসালের পর কোর্ট রিইনস্টেটমেন্ট দিলে, আপিলে হারলেও ওই পিরিয়ডের বেতন ফেরত দিতে হবে না। কারণ অর্ডার “immediately executory”।

 

*সারকথা*: পৃথিবীর কোনো খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেরিটাস পদ কেড়ে নিয়া বেতন ফেরত চাওয়ার নজির নাই। ডা. আবদুল্লাহ ঠিকই বলেছেন – “পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নেই”।

 

*☆ আইনে বিশ্লেষণ*

 

*১. বাংলাদেশ সংবিধান:*

– *অনুচ্ছেদ ৩১*: আইনের আশ্রয় লাভ প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। শুনানি ছাড়া সিদ্ধান্ত = অধিকার লঙ্ঘন।

– *অনুচ্ছেদ ৩৫(১)*: কোনো কাজ করার সময় যে আইন ছিল না, সেই আইনে শাস্তি দেয়া যাবে না। ২০২৪ এ “আজীবন” দেয়া বৈধ ছিল। ২০২৬ এ এসে “অবৈধ” বলা এক্স-পোস্ট-ফ্যাক্টো ল।

– *অনুচ্ছেদ ৪*: মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্টে রিট করার অধিকার।

 

*২. বিএসএমএমইউ আইন, ১৯৮:*

ধারা ৩৬ – সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। ধারা ২৩ – ইমেরিটাস নিয়োগের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের। আইনে “আজীবন নিষিদ্ধ” লেখা নাই। তাই সিন্ডিকেট “আজীবন” দিতেই পারে।

 

*৩. সাধারণ আইনের নীতি:*

1. *Doctrine of Legitimate Expectation*: রাষ্ট্র/প্রতিষ্ঠান যদি প্রতিশ্রুতি দেয়, নাগরিকের “বৈধ প্রত্যাশা” তৈরি হয়। সেটা ভাঙা যাবে না বিনা কারণে।

2. *Doctrine of Unjust Enrichment*: উনি ২ বছর কাজ করছেন। গবেষণা গাইড করছেন। এখন বলা “টাকা ফেরত দাও” মানে উনার শ্রম ফ্রি করে দেয়া। এটা অন্যায় সমৃদ্ধি।

3. *Administrative Law*: কোনো প্রশাসনিক ভুল হলে “prospective” বাতিল হয়। “Retrospective” বাতিল + টাকা ফেরত হয় না, যদি না প্রমাণ হয় জালিয়াতি। এখানে জালিয়াতির অভিযোগ নাই।

 

*৪. আন্তর্জাতিক কনভেনশন:*

ILO Convention 158 – চাকরি অবসানের আগে নোটিশ ও শুনানি বাধ্যতামূলক। ইমেরিটাস চাকরি না হলেও “সম্মানজনক স্ট্যাটাস”।

 

*☆ লিগাল দিক বিশ্লেষণ: অবিচার*

 

*১. পদ্ধতিগত অবিচার – Procedural Injustice:*

বিএসএমএমইউ ২ বছর পর বলছে “প্রসিডিউর ভুল”। কিন্তু ভুলটা কার? সিন্ডিকেটের। সিন্ডিকেট হলো বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই। নিজের ভুলের দায় একজন ৮০+ বয়সের মানুষের উপর চাপানো হলো। এটা “Vicarious Liability” এর অপপ্রয়োগ।

 

*২. বস্তুগত অবিচার – Substantive Injustice:*

ডা. আবদুল্লাহ ৫০ বছর ধরে মেডিসিন পড়িয়েছেন। একুশে পদক পেয়েছেন। উনার ছাত্ররা এখন দেশের টপ প্রফেসর। এই মানুষটাকে “বিধিবহির্ভূত” ট্যাগ দিয়ে রাস্তায় নামানো হলো।

 

আইনের ভাষায়: “Law is not an ass, but it becomes an ass when it is used without equity”।

 

*৩. আর্থিক অবিচার – Financial Injustice:*

২ বছরের ভাতা ফেরত চাওয়া মানে প্রায় ১৮-২০ লাখ টাকা। ৮০ বছরের একজন মানুষের পক্ষে এটা দেয়া অসম্ভব। আর আইনগত ভিত্তিও নাই। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় সরাসরি এর বিপক্ষে।

 

*৪. নৈতিক অবিচার – Moral Injustice:*

 

ইমেরিটাস মানে “জীবদ্দশায় স্বীকৃতি”। মৃত্যুর পর কে স্বীকৃতি নিবে? জীবিত মানুষকে অপমান করে জাতি কি শিখলো? ভবিষ্যতের প্রফেসররা কি ভাববে – “৩০ বছর সার্ভিস দিলেও শেষ বয়সে অপমানিত হবো”?

 

*৫. বিপদজনক*

 

আজ ডা. আবদুল্লাহর পদ কাড়া হলে কাল জাতীয় অধ্যাপকদের পদও কাড়া হতে পারে। এটা একটা বিপদজনক উদ্যোগ। একাডেমিক স্বাধীনতার উপর হামলা।

 

আইন শুধু ধারা-উপধারা না। আইনের আত্মা হলো ন্যায়বিচার। Aristotle বলেছেন “Equity is a correction of law where it is defective”।

 

ডা. আবদুল্লাহর ক্ষেত্রে বিএসএমএমইউ আইন দিয়ে “বিধিবহির্ভূত” প্রমাণ করলেও Equity দিয়ে উনি ১০০% সঠিক। কারণ:

1. উনি প্রতারণা করেন নাই

2. উনি কাজ করছেন

3. বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই ২ বছর মেনে নিছে

4. পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নাই

 

*করণীয়:*

1. হাইকোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করে স্টে অর্ডার নেয়া। গ্রাউন্ড: Natural Justice + Estoppel + Art 31, 35 লঙ্ঘন।

2. UGC ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া।

3. দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির যৌথ বিবৃতি। কারণ আজ আবদুল্লাহ, কাল অন্য কেউ।

 

এমিরেটস অধ্যাপক সম্মান কেড়ে নেয়ার নজির কোথাও নেই। এটা একটা ব্যক্তির অপমান না, এটা জাতির বিবেকের পরীক্ষা। আমরা যদি ডা. আবদুল্লাহর মতো মানুষকে সম্মান দিতে না পারি, তাইলে কাকে দিব?

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।