খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে সার্ভিস লেনে  বাড়ছে জনদুর্ভোগ  

জাহাঙ্গীর আলম শরীফ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে সার্ভিস লেনে  বাড়ছে জনদুর্ভোগ  
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাইটেক পার্ক সংলগ্ন N4 (ঢাকা-টাঙ্গাইল) জাতীয় মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচের সার্ভিস লেনে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিয়াকৈর বাজার থেকে গোয়ালবাথান, হরতকীতলা ও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে সার্ভিস লেন ব্যবহার করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করে আসছেন। তবে সম্প্রতি সার্ভিস লেনে চলাচলের সময়ও অনেক অটোরিকশা আটক করে জরিমানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক অটোরিকশা চালক জানান, তারা মূল মহাসড়কে না উঠে সার্ভিস লেন ব্যবহার করলেও অভিযানের মুখোমুখি হচ্ছেন। এতে তাদের জীবিকা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকা থেকে অনেক রোগী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। রোগী নামিয়ে ফেরার সময় অনেক চালককে জরিমানার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে N4 (ঢাকা-টাঙ্গাইল) জাতীয় মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক অংশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা যে সার্ভিস লেন (Slow moving vehicles diversion) তৈরি করা হয়েছে তা অধিকাংশে অবৈধ পার্কিং এর কারণে বন্ধ থাকে। ফলে চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর বাজারে যাতায়াতকারী ধীরগতির যানবাহনগুলো তখন মুল হাইওয়ে উঠে পড়ে। খাড়াজোড়া থেকে কালিয়াকৈর বাজারে যাওয়ার পুরাতন রাস্তায় যেতে হলে হাইটেক পার্ক সংলগ্ন ফ্লাইওভার ব্রিজের নিচে দিয়ে পারাপার হতে হয়। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন হাইওয়ে পুলিশের একটা গাড়ি এই ব্রিজের নিচে অবস্থান করে অটোরিকশা আটকে জরিমানা করছে। মানবিক দিক দিয়ে এটা কতোটা যৌক্তিক সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
 এদিকে কয়েকজন চালক আরও অভিযোগ করেন, হাইওয়ে পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে মাসিক মাসোহারার চুক্তিতে প্রচুর অটোরিকশা চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর বাজার পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করছে। যারা এই চুক্তি করেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সার্ভিস লেনটি যদি ধীরগতির যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সার্ভিস লেন ব্যবহারের নিয়মাবলি সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) এবং হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদানের দাবি জানান।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কালিয়াকৈর হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।