খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

 আইনি জটিলতায় কঙ্গনা অভিনীত সিনেমা কুইন ২

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
 আইনি জটিলতায় কঙ্গনা অভিনীত সিনেমা কুইন ২

ঢাকার ডাক বিনোদন ডেস্ক: কঙ্গনা রানাউত অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা কুইন ২। শুটিং শেষ হওয়ার পরই ছবিটির বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি রুপির মামলা করেছে ‘কুইন’এর মূল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্যান্টম স্টুডিওস।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ‘কুইন’-এর মেধাস্বত্ব (আইপি) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে জিওস্টারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে ফ্যান্টম স্টুডিওস। সংস্থাটির দাবি, তাদের অনুমতি ছাড়াই ‘কুইন’-এর সিক্যুয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, যা কপিরাইট ও মালিকানার শর্তের পরিপন্থী।

ফ্যান্টম স্টুডিওসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার আগে জিওস্টার এবং পরিচালক বিকাশ বহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে আপত্তির বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এমনকি আইনি নোটিশও পাঠানো হয়।

চলতি বছরের শুরুতে ‘কুইন ২’-এর শুটিং শুরু হয়। সম্প্রতি সিনেমাটির দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। ফ্যান্টমের দাবি, এসব অগ্রগতির বিষয়েও তারা অবগত ছিল। তাই অনুমতি ছাড়া কাজ এগোনোর অভিযোগেই দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কুইন’ সমালোচক ও দর্শক—উভয়ের কাছেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য কঙ্গনা রানাউত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন। ছবিটি মোট দুটি জাতীয় পুরস্কার জিতেছিল। সিনেমাটির প্রযোজনায় ছিল ভায়াকম১৮ মোশন পিকচার্স ও ফ্যান্টম ফিল্মস।

২০১৮ সালে ফ্যান্টম ফিল্মসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালে ফ্যান্টম স্টুডিওস নামে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, ‘কুইন’-এর মেধাস্বত্বের ৫০ শতাংশ মালিকানা এখনো তাদের কাছেই রয়েছে। ফলে সিক্যুয়াল নির্মাণের আগে তাদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।

জানা গেছে, বিষয়টি আদালতে যাওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে সমাধান না আসায় শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের পথই বেছে নিয়েছে ফ্যান্টম স্টুডিওস।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।