খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক গতকাল (০৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং (Senior Lieutenant General Nguyen Van Long)।

বৈঠকে উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত জানুয়ারি ২০২৬-এ ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক স্তরে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিয়েতনামের সাথে সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।

১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সাথে তার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও বহুমুখী অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (People-to-people contact) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে ভিয়েতনাম সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিলকরণের অনুরোধ জানান। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে ‘প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (PTA) স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ফলে দ্রুতই বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। মন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পরিবেশের সুবিধা নিয়ে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ আসিয়ান (ASEAN)-এ বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ (Sectoral Dialogue Partner) হওয়া এবং আরসিইপি (RCEP)-এর সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ভিয়েতনামের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে কেশবপুরে বিএনপির ৩ অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ কেশবপুরে স্বেচ্ছাসেবক, যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল

মোঃশফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে কেশবপুরে বিএনপির ৩ অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ কেশবপুরে স্বেচ্ছাসেবক, যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল

যশোরের কেশবপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারা দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ‘গুপ্ত মিছিল’ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসর ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেশবপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনারায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এবং যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের বাবুল রানা, যুবদলের মেহেদী হাসান হিমেল এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজ ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।
মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ছাত্রদল নেতা আজিজুর রহমান আজিজ। বক্তব্যে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।