খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে কথিত ভুয়া চিকিৎসকের অপচিকিৎসার অভিযোগ: পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে ৫ শিশু, ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদগঞ্জে কথিত ভুয়া চিকিৎসকের অপচিকিৎসার অভিযোগ: পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে ৫ শিশু, ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কথিত এক ভুয়া চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অন্তত পাঁচ শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এলার্জির চিকিৎসার নামে দেওয়া ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাদের হাতের ইনজেকশন দেওয়া অংশ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে হাত অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ফকির বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রিয়াজুল হক দীর্ঘদিন ঢাকার এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার সুনাম শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসতেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলার্জির চিকিৎসার জন্য রিয়াজুল হকের কাছে গেলে তিনি নিজেই ইনজেকশন প্রয়োগ করেন এবং ওষুধ দেন। ইনজেকশন নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই ইনজেকশন দেওয়া স্থানে তীব্র ব্যথা, মাংস শুকিয়ে যাওয়া এবং হাত দুর্বল হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়।

অপচিকিৎসার শিকার শ্রীকালিয়া গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম জানান, প্রায় তিন মাস আগে তিনি ও তার ১৮ মাস বয়সী ছেলে আব্দুল আহাদ এলার্জির চিকিৎসা নিতে রিয়াজুল হকের কাছে যান। তিনি মা ও সন্তান—উভয়কেই দুটি করে ইনজেকশন দেন এবং ওষুধ লিখে দেন। পরে ইনজেকশন দেওয়া স্থানে ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ওই অংশ শুকিয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি জানালে রিয়াজুল হক ভিটামিন খাওয়ার পরামর্শ দেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, হাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশ্রাফুল ইসলামের মা মোহছেনা বেগম, মাদ্রাসাছাত্র ইয়াছিনের মা তাহমিনা বেগম এবং আরেক ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক মো. হাসান। তাদের দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে ভুল ইনজেকশনের কারণে শিশুদের হাতে সংক্রমণ হয়েছে, হাতের শক্তি কমে গেছে এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রিয়াজুল হক স্বীকৃত কোনো চিকিৎসক নন। তবুও তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করে আসছেন।

গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, রিয়াজুল হকের চিকিৎসার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি সত্য। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. রিয়াজুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইনজেকশনের স্থানে সংক্রমণের কারণে আক্রান্তদের হাতের রগ ও মাংসপেশির ক্ষতি হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।