ফরিদগঞ্জে কথিত ভুয়া চিকিৎসকের অপচিকিৎসার অভিযোগ: পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে ৫ শিশু, ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কথিত এক ভুয়া চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অন্তত পাঁচ শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এলার্জির চিকিৎসার নামে দেওয়া ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাদের হাতের ইনজেকশন দেওয়া অংশ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে হাত অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ফকির বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রিয়াজুল হক দীর্ঘদিন ঢাকার এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার সুনাম শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসতেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলার্জির চিকিৎসার জন্য রিয়াজুল হকের কাছে গেলে তিনি নিজেই ইনজেকশন প্রয়োগ করেন এবং ওষুধ দেন। ইনজেকশন নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই ইনজেকশন দেওয়া স্থানে তীব্র ব্যথা, মাংস শুকিয়ে যাওয়া এবং হাত দুর্বল হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়।
অপচিকিৎসার শিকার শ্রীকালিয়া গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম জানান, প্রায় তিন মাস আগে তিনি ও তার ১৮ মাস বয়সী ছেলে আব্দুল আহাদ এলার্জির চিকিৎসা নিতে রিয়াজুল হকের কাছে যান। তিনি মা ও সন্তান—উভয়কেই দুটি করে ইনজেকশন দেন এবং ওষুধ লিখে দেন। পরে ইনজেকশন দেওয়া স্থানে ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ওই অংশ শুকিয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি জানালে রিয়াজুল হক ভিটামিন খাওয়ার পরামর্শ দেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, হাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশ্রাফুল ইসলামের মা মোহছেনা বেগম, মাদ্রাসাছাত্র ইয়াছিনের মা তাহমিনা বেগম এবং আরেক ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক মো. হাসান। তাদের দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে ভুল ইনজেকশনের কারণে শিশুদের হাতে সংক্রমণ হয়েছে, হাতের শক্তি কমে গেছে এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রিয়াজুল হক স্বীকৃত কোনো চিকিৎসক নন। তবুও তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করে আসছেন।
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, রিয়াজুল হকের চিকিৎসার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি সত্য। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রিয়াজুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইনজেকশনের স্থানে সংক্রমণের কারণে আক্রান্তদের হাতের রগ ও মাংসপেশির ক্ষতি হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



আপনার মতামত লিখুন