মাওনা ফ্লাইওভারের নিচে মিনিবাস চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত ভাড়ায় দুর্ভোগে যাত্রীরা
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে যানজট কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই বিকল্প হিসেবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। এ সুযোগে অনেক চালক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাওনা চৌরাস্তা, মাস্টারবাড়ী, এমসি বাজার, জৈনা বাজারসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আগে যেখানে মিনিবাসে তুলনামূলক কম ভাড়ায় যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন একই দূরত্ব অতিক্রমে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা প্রতিদিন অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন বলেন, “মাওনা চৌরাস্তা থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত আগে ২০ টাকা ভাড়া লাগত। এখন মিনিবাস না থাকায় সিএনজি চালকরা ৪০ টাকা নিচ্ছেন।”
আরেক যাত্রী জাকির মিয়া বলেন, “এমসি বাজারে যেতে আগে ১০ টাকা ভাড়া দিতাম। এখন ২০ টাকা চাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছি।”
মরজিনা বেগম বলেন, “মাওনা থেকে মাস্টারবাড়ি যেতে আগে ১০ টাকা ভাড়া ছিল। এখন একই পথে ২০ টাকা দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।”
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। মিনিবাস চলাচল বন্ধ হওয়ার পর তাদের বড় একটি অংশকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, ফ্লাইওভারের নিচে যানজট নিরসনের স্বার্থে মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে যাত্রীরা বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অটোরিকশায় চলাচল করছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রোধে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, যানজট নিরসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।



আপনার মতামত লিখুন