খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মর্যাদা উজ্জ্বল করেছে রুনা লায়লা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মর্যাদা উজ্জ্বল করেছে রুনা লায়লা

ঢাকার ডাক বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ঝরছিল সুরের বৃষ্টি। সেই সুরের উৎসে ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তার কণ্ঠে একের পর এক কালজয়ী গান যেন মনে করিয়ে দিল, সময়ের হিসাব বয়স দিয়ে হয়, শিল্পের নয়।

ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শুধু গান গেয়ে আসছেন না; প্রজন্মের পর প্রজন্মের অনুভূতি, প্রেম, বেদনা, দেশপ্রেম আর স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছেন। তাই শুক্রবারের সেই একক কনসার্ট ছিল শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়, ছিল এক জীবন্ত ইতিহাসের সঙ্গে দর্শকের পুনর্মিলন।শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’—অনুষ্ঠানের শিরোনামটিই যেন রুনা লায়লার শিল্পীজীবনের সারসংক্ষেপ। সত্যিই তো, এত বছর পরও তিনি সেই শিল্পী, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য গান গেয়ে চলেছেন।

মঞ্চে ওঠার পরই ভাষা আন্দোলন ও দেশের জন্য আত্মত্যাগীদের স্মরণ করে দেশাত্মবোধক গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন তিনি। এরপর একে একে শোনান তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শ্রোতাপ্রিয় গানগুলো। ‘শিল্পী আমি’, ‘গানেরই খাতায়’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘বন্ধু তিন দিন’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে’—প্রতিটি গান যেন দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল জীবনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। আর শেষ গান ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ পুরো মিলনায়তনকে পরিণত করেছিল এক সম্মিলিত উচ্ছ্বাসে।

এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠা—রুনা লায়লার শ্রোতা শুধু তার সমসাময়িকেরা নন। মিলনায়তনে যেমন ছিলেন প্রবীণ শ্রোতা, তেমনি ছিলেন তরুণ-তরুণীও। অনেকেই হয়তো তার গান শুনে বড় হননি, কিন্তু তার গান শুনতে এসেছেন, তার কণ্ঠকে কাছ থেকে অনুভব করতে এসেছেন। এটাই একজন কিংবদন্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য—প্রজন্মের ব্যবধানকে অতিক্রম করে যাওয়া।

গানের পাশাপাশি নিজের জীবনের গল্পও শোনালেন রুনা লায়লা। বললেন, মাত্র ছয় বছর বয়সে করাচিতে প্রথমবার মঞ্চে ওঠার গল্প। বড় বোন অসুস্থ হয়ে পড়ায় হঠাৎ করেই ছোট্ট রুনাকে গান গাইতে হয়েছিল। সেই আকস্মিক মুহূর্তই হয়ে ওঠে তার জীবনের প্রথম মঞ্চাভিষেক। কে জানত, সেই ছোট্ট মেয়েটিই একদিন বাংলা, হিন্দি, উর্দুসহ ১৮টি ভাষায় দশ সহস্রাধিক গান গেয়ে উপমহাদেশের সংগীতের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখবেন!

মাত্র ১৪ বছর বয়সে পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দশ সহস্রাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, পশতুসহ ১৮টি ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন উপমহাদেশের অন্যতম কিংবদন্তি শিল্পী হিসেবে। আজ ৬২ বছর পরও তার কণ্ঠে ক্লান্তির ছাপ নেই, মঞ্চে উপস্থিতিতে নেই কোনো ভাটা।

শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে এটিই ছিল তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ একক কনসার্ট। এই তথ্যটিও বিস্ময় জাগায়। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য দেশে, অসংখ্য মঞ্চে গান গাইলেও দেশের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মঞ্চে পূর্ণাঙ্গ একক আয়োজন হলো এত বছর পর।

টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। অর্থাৎ, এই আয়োজন শুধু সংগীতের উদ্‌যাপন নয়, মানবিক দায়বদ্ধতারও এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রুনা লায়লাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এসময় দর্শকদের দীর্ঘ করতালি, দাঁড়িয়ে অভিবাদন আর প্রতিটি গানের পর উচ্ছ্বাসই হয়তো ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় সম্মাননা। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মাওলা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আপনার কণ্ঠে প্রতিটি গান সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। আপনার শিল্পসাধনা বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মর্যাদা উজ্জ্বল করেছে।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ‘দেশের বরেণ্য শিল্পীদের যথাযথ সম্মান জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি সেই প্রচেষ্টারই অংশ।আজকের ডিজিটাল যুগে, যখন সংগীতের ধারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তখনও রুনা লায়লার গান একই আবেগে মানুষকে স্পর্শ করে। কারণ, ভালো গান কখনো পুরোনো হয় না; প্রকৃত শিল্পীরও অবসর হয় না।কিংবদন্তিরা শুধু গান গেয়ে যান না, তারা সময়কে অতিক্রম করে মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকেন। আর সেই কারণেই রুনা লায়লা শুধু একজন শিল্পীর নাম নন; তিনি বাংলা গানের এক চলমান ইতিহাস।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।