অসহায় মালেকা বেগমের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান, নিরাপদ ঠাঁই করে দিল ‘আরএসইউএফ’
ঝড়-বৃষ্টি এলেই আতঙ্কে কেঁপে উঠত বুক। পাটকাঠির তৈরি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরটি কখন ভেঙে মাথায় পড়ে, এই আশঙ্কায় কাটত বিনিদ্র রাত। বলছিলাম মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার গ্রামের ৫০ বছর বয়সী বিধবা মালেকা বেগমের কথা। স্বামীহারা এই নারীর নেই কোনো ছেলেসন্তান, একটিমাত্র মেয়েকে নিয়ে চলছিল তাঁর টানাপোড়েনের সংসার। বাজারে দোকানে দোকানে পানি টেনে কোনোমতে দিন এনে দিন খেতেন। উপার্জনের আর দ্বিতীয় কোনো পথ ছিল না। অবশেষে সেই অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপনে নেমে এলো স্বস্তির পরশ। মালেকা বেগমের এই দুর্দশার কথা জানতে পেরে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রহমাতুন্নেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (RSUF)। কালুখালী উপজেলার শাওরাইল ইউনিয়নের পাতুরিয়ায় অবস্থিত এই ফাউন্ডেশনটি মালেকা বেগমকে একটি মজবুত ‘দোচালা টিনের নতুন ঘর’ তৈরি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে স্থায়ী ও নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই পেল পরিবারটি। আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছে। কোনো ছেলে নাই, একটা মেয়ে আছে। বাজারে দোকানে পানি টেনে খাই, আয় করার মতো আর কেউ নাই। এই ঘর পেয়ে আমি খুব উপকার পেলাম বলে আবেগে আপ্লুত হমালেকা বেগম ঘর হস্তান্তর ও পরিদর্শনকালে রহমাতুন্নেছা শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সোলাইমান বলেন,আমাদের ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো: জাহিদুল ইসলাম মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় আমরা এই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারটির জীবনে ছড়িয়ে দিয়েছে নতুন আশার আলো। মালেকা বেগম ও তাঁর পরিবার ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংস্থাগুলো এভাবে এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আকিদুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।



আপনার মতামত লিখুন