ঝাঁড়তলা–গঙ্গা ঘাটে সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী, ভোগান্তিতে দুই উপজেলার মানুষ
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের ঝাঁড়তলা বাজার ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের পাঁচুয়া হাজী বাজার (গঙ্গা) ঘাটের মধ্যে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। তবে এখনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন দুই উপজেলার হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা মনোহরদী ও কাপাসিয়াকে পৃথক করেছে। শুষ্ক মৌসুমে মানুষ নদের ওপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। আর বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেতু না থাকায় শুধু যাতায়াতেই দুর্ভোগ বাড়ছে না; শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
লেবুতলা ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি ও প্রভাষক মো. শফিকুল ইসলাম জুলহাস বলেন, একটি সেতু নির্মিত হলে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে মনোহরদীর লেবুতলা হয়ে ভৈরব ও কটিয়াদী পর্যন্ত একটি বিকল্প আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। এতে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়দের মতে, সেতু নির্মিত হলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় বাজারব্যবস্থা ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে।
মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, ওই স্থানে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।
দীর্ঘদিনের এই দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন চান দুই উপজেলার বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, ঝাঁড়তলা–গঙ্গা ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।



আপনার মতামত লিখুন