খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাবিতে শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা,ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন শিক্ষকরা

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
রাবিতে শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা,ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন শিক্ষকরা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যায় এক নজিরবিহীন ঘটনা। শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষকরা মানববেষ্টনী তৈরি করে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করেন।

এদিন দেশজুড়ে আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। একদিকে ঢাকায় ডিবি হেফাজত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক মুক্তি পান, অন্যদিকে রাজধানীতে শিল্পীদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন এবং কক্সবাজারে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনটি শুরু হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি দিয়ে। শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখন আঁকেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের পাশের দেয়ালেও প্রতিবাদী চিত্র আঁকা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান।

চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের চিত্রই তারা শিল্পের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে শিক্ষক নেটওয়ার্কের মৌন মিছিলে। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে মুখে লাল কাপড় বেঁধে শিক্ষকরা শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে মৌন মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে সিভিল পোশাকে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ঘিরে মানববেষ্টনী তৈরি করেন। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে কাজলা গেট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগের রাতেই আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা গভীর রাতে মতিহার থানাসহ সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে যান এবং মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত থানা না ছাড়ার ঘোষণা দেন। কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর রাত প্রায় ১টার দিকে মতিহার থানায় আটক তিন শিক্ষার্থীকে প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের বক্তব্য,সেদিনের মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ডঃআমীরুল ইসলাম কনক বলেন,১ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকের পরীক্ষা ছিল। যখন দেখলাম আমাদের সামনেই শিক্ষার্থীদের জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তখন শিক্ষক হিসেবে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডঃমোঃফরিদ উদ্দীন খান বলেন,আমাদের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে যাবে- এত সাহস কার, সেটাই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। কোনো কিছুর পরোয়া না করে আমরা বাধা দিয়েছি এবং একজন শিক্ষার্থীকেও নিয়ে যেতে দিইনি।

তার মতে,১ আগস্টের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনের গতিপথেও প্রভাব ফেলে।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।