রাবিতে শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা,ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন শিক্ষকরা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যায় এক নজিরবিহীন ঘটনা। শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষকরা মানববেষ্টনী তৈরি করে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করেন।
এদিন দেশজুড়ে আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। একদিকে ঢাকায় ডিবি হেফাজত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক মুক্তি পান, অন্যদিকে রাজধানীতে শিল্পীদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন এবং কক্সবাজারে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনটি শুরু হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি দিয়ে। শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখন আঁকেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের পাশের দেয়ালেও প্রতিবাদী চিত্র আঁকা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান।
চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের চিত্রই তারা শিল্পের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে শিক্ষক নেটওয়ার্কের মৌন মিছিলে। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে মুখে লাল কাপড় বেঁধে শিক্ষকরা শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে মৌন মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে সিভিল পোশাকে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ঘিরে মানববেষ্টনী তৈরি করেন। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে কাজলা গেট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
এর আগের রাতেই আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা গভীর রাতে মতিহার থানাসহ সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে যান এবং মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত থানা না ছাড়ার ঘোষণা দেন। কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর রাত প্রায় ১টার দিকে মতিহার থানায় আটক তিন শিক্ষার্থীকে প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের বক্তব্য,সেদিনের মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ডঃআমীরুল ইসলাম কনক বলেন,১ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকের পরীক্ষা ছিল। যখন দেখলাম আমাদের সামনেই শিক্ষার্থীদের জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তখন শিক্ষক হিসেবে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডঃমোঃফরিদ উদ্দীন খান বলেন,আমাদের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে যাবে- এত সাহস কার, সেটাই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। কোনো কিছুর পরোয়া না করে আমরা বাধা দিয়েছি এবং একজন শিক্ষার্থীকেও নিয়ে যেতে দিইনি।
তার মতে,১ আগস্টের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনের গতিপথেও প্রভাব ফেলে।



আপনার মতামত লিখুন