তালায় ১৫ বছরের কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ: প্রদেয় নিষেধাজ্ঞা ও আইনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন সফলভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করার পাশাপাশি কনে ও বর—উভয় পরিবারের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
উপজেলার তালা সদর ইউনিয়নের আটারই গ্রামের তপন দাশের ১৫ বছর বয়সী কন্যা রিক্তা দাশের সঙ্গে ইসলামকাটি ইউনিয়নের ঘোনা দাশপাড়ার ২১ বয়ঊর্ধ্ব তরুণ বাসুদেব কুমার দাশের (২৪) বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।
বাল্যবিবাহের খবরটি পৌঁছানোর পর তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং উভয় পক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
নির্ধারিত দিনে উভয় পক্ষ তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা-এর কার্যালয়ে উপস্থিত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়েটি স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়ামাত্রই আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং নির্ধারিত দিনে উভয় পক্ষকে হাজির করে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপসমূহ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর আলোকেই প্রধান পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করেছে:
নিষেধাজ্ঞা জারি (ধারা ৮ অনুযায়ী): কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার বিয়ের আয়োজন বা একসঙ্গে বসবাস করার ওপর আদালত/উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মুচলেকা ও অঙ্গীকারনামা: কনের পিতা তপন দাশ ও বরের পরিবার লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন যে, তারা ভবিষ্যতে কখনো বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত হবেন না। একইসঙ্গে কনের লেখাপড়া স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষীর উপস্থিতি: আইনি সুরক্ষার অংশ হিসেবে মুচলেকায় দুই পরিবারের সদস্য, কনের বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
অঙ্গীকারনামার শর্ত: মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় বাল্যবিয়ে বা এ সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত করলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও কঠোর আইনি পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহলের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে এলাকায় বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।



আপনার মতামত লিখুন