খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

টাকার লোভে বাবা মা ৮ বছরের শিশুকে বিয়ে দিলেন ৪৫ বছরের ছেলের সাথে

মো :আব্দুল বাতেন বাচ্চু
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
টাকার লোভে বাবা মা ৮ বছরের শিশুকে বিয়ে দিলেন ৪৫ বছরের ছেলের সাথে

অন্য শিশুদের সঙ্গে হইচই, খেলাধুলা ও পড়াশোনা করে সময় কাটছিল তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মীমের (ছদ্মনাম)। হঠাৎ করেই ফুটফুটে মেয়েশিশুটির দিকে নজর পড়ে বড়লোকের এক বখাটে ছেলের। টাকার লোভে ফেলেন হতদরিদ্র মা-বাবাকে। সেই লোভেই মাদকাসক্ত ছেলের সঙ্গে জোরপূর্বক শিশুটির বিয়ে দেন মা-বাবা। কাজি ডেকে বিয়ে সম্পন্ন করেন। আসছে শুক্রবার ঘটা করে শিশুটিকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোরও আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। তবে সেই আয়োজন আর বাস্তবায়িত হয়নি শিশুটির বুদ্ধিমত্তা ও প্রশাসনের পদক্ষেপের কারণে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামে।

ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মীম ছুটে যায় প্রতিবেশী নানার বাড়িতে। আশ্রয় চায় প্রতিবেশী মামার। এরপর তাঁরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসনও।

ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থী জানায়, ১৫ দিন আগে তাকে পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার কাশর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রুবেলের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়। তার মা-বাবা অনেক ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। বিয়ে না করলে তাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবে—এমন আরও অনেক ভয়ভীতি দেখায়। ‘ছেলের বাবার অনেক টাকাপয়সা আছে, আমরা সুখে থাকব’— এমন আরও অনেক কিছু বলে লোভ দেখায়।

শিশুটি বলে, ‘হঠাৎ করে কাজি ডেকে এনে বিয়ে দিছে। আসছে শুক্রবার আমাকে স্বামীর বাড়িতে তুলে দিবে—এমন আলাপ চলছিল। মা-বাবার মুখে এমন আলাপ শুনে আজ রোববার বিকেলে মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে প্রতিবেশী নানা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে যাই। মামা শরিফুল ইসলামকে সব খুলে বলি। তাঁরা সবকিছু জানার পর মা-বাবাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা ফোন বন্ধ করে রাখেন। মামা কয়েকজন নিয়ে সেখানে গেলে মা-বাবা আর ছেলেটা পালিয়ে যায়।’
আরও বলেন রমজান আলীর ছেলে এর আগেও তিনটি বিয়ে করেছে এবং সে একজন মাদক কারবারি।

শিশু মীমের প্রতিবেশী মামা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে শিশুটি এসে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে। বিষয়টি শোনার পর আমাদের মাথা ঠিক ছিল না। সঙ্গে সঙ্গে লোকজন নিয়ে শিশুর মা-বাবা আর ছেলেটিকে ধরতে যাই। কিন্তু আমাদের এমন তৎপরতার কারণে ওরা পালিয়ে গেছে। সঙ্গে থানা-পুলিশ ও ইউএনওকে (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) জানানো হয়। প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করে। ইউএনও শিশুটিকে আমার হেফাজতে রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন। ছেলেটা চিহ্নিত মাদকাসক্ত। টাকার লোভে পড়ে এমন কাজ করছে তার মা-বাবা। এই মেয়ে বিয়ের কিছু বোঝে?’

স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক বলেন, ‘মেয়েটি আমার স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পরপরই প্রশাসনকে অবহিত করি।’

অভিযুক্ত মায়ের বক্তব্য নিতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ জন্য বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর আগেই শিশুটির মা-বাবা ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আপাতত শিশুটিকে তার প্রতিবেশী নানার বাড়িতে আশ্রয়ে রাখতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে যত দূর জানতে পারছি, ছেলেটি চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার নামে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে নিরাপদে রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে পদক্ষেপ নিতে নিদর্শনা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কাজিকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। মা-বাবাকেও খুঁজে এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।