খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কলকাতার আগুনে নিভে গেল ৭ বাংলাদেশির প্রাণ, বেনাপোলে ফিরল ৫ মরদেহ

মোঃ জমির হোসেন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
কলকাতার আগুনে নিভে গেল ৭ বাংলাদেশির প্রাণ, বেনাপোলে ফিরল ৫ মরদেহ

এক সপ্তাহ আগেও যারা জীবিত ছিলেন, আজ তারা ফিরলেন নিথর দেহে। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশির মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছে। আর একজনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পাঁচটি মরদেহ বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছানোর পর মুহূর্তেই বদলে যায় বন্দরের পরিবেশ। স্বজনদের কান্না, আহাজারি আর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে বেনাপোল স্থলবন্দর। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারও চোখে অশ্রু, কারও মুখে নির্বাক শোক—সব মিলিয়ে সীমান্তজুড়ে নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
গত ১৯ আগস্ট কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন ও ধোঁয়ায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের শিশু সন্তান স্বর্ণাশীষ দত্ত এবং আফসানা শারমীনের বাবা আকরাম আলী রয়েছেন। একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাভারের জোবায়ের বাবু।
একসঙ্গে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে কুষ্টিয়াবাসীকে। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার কথা থাকলেও তাঁদের ফিরতে হলো কফিনবন্দী হয়ে।
শনিবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দরে যখন একে একে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে, তখন অপেক্ষমাণ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ ছুটে যান অ্যাম্বুলেন্সের কাছে, কেউ আবার প্রিয়জনের মরদেহ দেখার আগেই কান্নায় মাটিতে বসে পড়েন।
স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে উপস্থিত অন্য মানুষদের চোখেও পানি চলে আসে। বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয় এক ভারী শোকাবহ পরিবেশ।
জীবিত অবস্থায় যে সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে গিয়েছিলেন, সেই সীমান্ত দিয়েই এবার ফিরলেন লাশ হয়ে। এই দৃশ্য যেন নাড়া দিয়েছে উপস্থিত প্রত্যেক মানুষকে।
একই পরিবারের চারজনের নিথর ফেরায় কাঁদছে কুষ্টিয়া
নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের জন্য এ যেন একসঙ্গে চারটি কবরের শোক। স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুর—একটি পরিবারের চারটি প্রাণ একসঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বজনদের কান্না থামছে না।
দেবাশীষ দত্ত সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু সহকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রিয়জনদের জীবিত অবস্থায় ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে।
বেনাপোলে শেষবারের মতো দেখা
মরদেহ দেশে ফেরার খবর পেয়ে স্বজনরা আগে থেকেই বেনাপোল স্থলবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন অ্যাম্বুলেন্সগুলো বন্দরে প্রবেশ করে, তখন শুরু হয় কান্নার রোল।
কেউ প্রিয়জনের মুখ দেখতে চান, কেউ শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখতে চান। কিন্তু প্রিয় মানুষটি আর কোনোদিন কথা বলবেন না—এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
বেনাপোল স্থলবন্দরের এই দৃশ্য ছিল যেন এক নীরব কান্নার সমুদ্র।
ভোমরা দিয়ে ফিরেছে আরেক মরদেহ
কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে একজনের মরদেহ শনিবার সকালে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছে।
অর্থাৎ একই দিনে কলকাতার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফিরেছে—পাঁচজন বেনাপোল দিয়ে এবং একজন ভোমরা দিয়ে।
বাকি একজনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আগুনে শেষ হয়ে গেল সাত বাংলাদেশির জীবন
১৯ আগস্ট রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের পাশাপাশি ঘন ধোঁয়ায় অনেকেই আটকা পড়েন। পরে একে একে উদ্ধার করা হয় মরদেহ।
ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।
কিন্তু তদন্ত, মামলা কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা—কোনোটিই আর ফিরিয়ে দিতে পারবে না নিহত সাত বাংলাদেশিকে।
কান্নায় শেষ হলো অপেক্ষা
বেনাপোল সীমান্তে শনিবার বিকেলের দৃশ্য মনে করিয়ে দিয়েছে—সীমান্ত শুধু মানুষের যাতায়াতের পথ নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে স্বজন হারানোর বেদনারও সাক্ষী।
কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন স্বপ্ন, চিকিৎসা ও প্রয়োজনের তাগিদে। কিন্তু কয়েকদিন পর সেই মানুষগুলোরই নিথর দেহ ফিরল বাংলাদেশে।
১৯ আগস্ট কলকাতার আগুনে নিভে গেল সাত বাংলাদেশির জীবন। আর ২২ আগস্ট বেনাপোল সীমান্তে ফিরল পাঁচটি নিথর দেহ—সঙ্গে ফিরল পাঁচ পরিবারের আজীবনের কান্না।
স্বজনদের সেই আর্তনাদে শনিবার বিকেলে যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল বেনাপোল স্থলবন্দর।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।