খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কে এই জান্নাতুল ? প্রতারনার খবর প্রকাশের পরে একে একে বের হচ্ছে পিছনের গল্প

ষ্টাফ রিপোটার্স
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কে এই জান্নাতুল ? প্রতারনার খবর প্রকাশের পরে একে একে বের হচ্ছে পিছনের গল্প

হিন্দি সিনেরমার খলনায়িকার চরিত্রের বাস্তব চরিত্র খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস।ক্লিনিক এর আড়ারে দেহ ব্যবসা ১০ বছরের শিশুকে ও ছাড় পাইনি তার হাত থেকে ।

১০ বছরের শিশুকে অজ্ঞান করে নৃশংস ধর্ষণ ও ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখানোর নেপথ্যে এক ভুয়া ডাক্তার পরিচয় খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস । কে এই জান্নাতুল পরিচয় পাওয়া যায় পুলিশের নথিভুক্ত নারী ও শিশু দেহ ব্যবসা ঠিকাদার এবং সমাজে কিছু পেশি ধর ব্যক্তিবর্গ ছাত্র ছায়ায় তৈরি হওয়া চিকিৎসার ব্যবসা আড়ালে এক নরপিচাষিনী।গড়ে তুলেছিল স্কয়ার হেলথ কেয়ার হাসপাতাল নামের একটি ভুয়া স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র। যেখানে সুরমা জাহান রাজিয়া নামের স্টাফ ধারা বাচ্চাদের টার্গেট করে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে অচেতন করে বিভিন্ন টাইপের অসামাজিক ভিডিও তৈরি করে ব্ল্যাক মিল করা কাজে নিয়োজিত ছিল। গডমাদার খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌসরা সমাজে এমন কোন কাজ করে নাই মাদক, হানি ট্রাফ,ধর্ষণ এর সহযোগিতা এগুলো হয়ে আসছে। জানা যায় ১৫-১১-২০১৮ সালে দৈনিক আলোর জগত পত্রিকা একটি সংবাদ প্রচার হয় যাতে উঠে আসে সুত্রাপুর থানা জিডি নাম্বার ৩৪১ তাং০৮/১১/২০১৮ সালের যেটার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এস আই আজমের নেতৃত্বে খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস সহ আরো দুইজনকে গ্রেফতার করে ধোলাইপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০-১১ বছরের বাচ্চা মেয়েকে গণধর্ষণ এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কারণে।
পরবর্তী এই জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে মহামান্য আদালত রিমান্ডও মঞ্জুর করেছিল।

“মেয়েটি যখন স্কুল থেকে ফেরেনি, তখন শুধু একটি পরিবার ভেঙে পড়েনি—নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল শৈশবের সব রঙ। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ংকর ও লোমহর্ষক সত্য বেরিয়ে আসে যখন শিশুটি উদ্ধার হয়। ভুয়া ডাক্তার ও এক নারীর ভয়াবহ প্রতারণার জালে কী নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে, তা জানলে যেকোনো সভ্য মানুষের বিবেক কেঁপে উঠবে।”
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে নিখোঁজ ও উদাসীনতা
সময়টা ছিল ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার। দুপুর তিনটায় কোচিং ছুটির পর যথাসময়ে বাড়ি ফেরেনি পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী (বয়স আনুমানিক ১০ থেকে ১১ বছর)। দিনভর নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তৎকালীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিনের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক বিষয় হলো, একজন শিক্ষক হয়েও প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ গুরুত্বহীনভাবে উড়িয়ে দেন এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহায়তায় একদিন পর মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয় এবং দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তার ওপর একাধিক ব্যক্তির দ্বারা পাশবিক নির্যাতনের নির্মম সত্য নিশ্চিত করেন।
লোমহর্ষক অভিযোগে পাওয়া যায় ভুয়া ডাক্তারের ভয়ংকর ফাঁদ
উদ্ধার হওয়ার পর শিশুটি যে জবানবন্দি দেয়, তা ছিল রোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠার মতো। তার অভিযোগের তীর ছিল তারই এক ক্লাসমেটের মা খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস-এর দিকে, যিনি এলাকায় নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিলেও আদতে একজন ভুয়া ডাক্তার।

সেময় দেওয়া সাংবাদিকদের কাছে শিশুটির বর্ণনা অনুযায়ী বিভিন্ন অজুহাতে খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌসের ফার্মেসিতে তাকে নিয়ে যাওয়া হতো।
সেখানে নাকের কাছে ক্লোরোফর্ম বা মাদকজাতীয় রুমাল ধরে তাকে অবচেতন বা অজ্ঞান করা হতো। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করানো হতো এবং সেই পাশবিক নির্যাতনের গোপন ভিডিও ধারণ করে রাখা হতো।
অপরাধীরা ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে চরমভাবে ব্ল্যাকমেইল করত,যাতে সে মুখ না খোলে। এই নারকীয় নির্যাতনের ঠিক ১৫ দিন পর মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়।এগুলো সহযোগী হিসেবে কাজ করতো হাত কাটা আত্মা ধোলাই পারের,বগা মনির ও আব্দুর রব। নিখোঁজ বাচ্চাটিকে আব্দুর রবের বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রভাবশালীদের ছায়া,

এই ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে বিজয় টিভি, ৭১ টিভি এবং স্থানীয় কিছু প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও নেপথ্যের প্রভাবশালীচক্র বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সহায়তা করেন এবং এবং মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে বর্তমানে এ বিষয়ে কথা বলতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
মূল অভিযুক্ত খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌসকে পুলিশ গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেও প্রভাবশালী এবং টাকার কাছে আইন চুপসে যায়। কারন তারা জানত ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে ব্যর্থ,ফলে সুবিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। এভাবেই জামিনে মুক্তি পেয়ে ওই প্রতারকচক্র বর্তমানে অন্য কোনো এলাকায় নতুন করে একই অপকর্মের জাল বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমাজের প্রতি কঠিন প্রশ্ন
একটি ১০-১১ বছরের শিশুর শৈশবকে যারা এভাবেই চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে, তারা কি সমাজ ও মানবতার শত্রু নয়? প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রধান শিক্ষকের নীরব ভূমিকা কি অপরাধীদেরই আশ্রয় দেয়নি?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত অবিলম্বে অভিযুক্ত খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস এবং নেপথ্যের সহযোগীদের পুনরায় আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, যাতে আর কোনো শিশুকে এমন নরকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

অভিযুক্ত খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌস এর সাথে মোবাইল যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তার আইনজীবি ও পুলিশ এই বিষয়ে কথা বলতে মানা করছে । তবে তার বিরুদ্ধে লিখলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ও তিনি মামলার হুমকি প্রদান করেন ।

আমরা বর্তমানে অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে পারি তাসনিন প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানটি এই সেই খন্দকার জান্নাতুল ফেরদৌসির সৃষ্টি।আমাদের অনুসন্ধানী এখানেও একই রকম পরিস্থিতি আবাস পাচ্ছে।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।