খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে হারিয়ে গেছে ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টি, ফুরিয়েছে চিঠির অপেক্ষা 

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে হারিয়ে গেছে ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টি, ফুরিয়েছে চিঠির অপেক্ষা 

একসময় কালিয়াকৈরের গ্রামগুলোর সকাল-বিকেলের নীরবতা ভেঙে ভেসে আসত সাইকেলের টুংটাং ঘণ্টির শব্দ। কাঁধে চামড়ার ব্যাগ ঝুলিয়ে পথে পথে ছুটে বেড়াতেন ডাকপিয়ন। গ্রামের মানুষ জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকতেন -হয়তো আজ আমার ছেলের চিঠি এসেছে।

কিন্তু প্রযুক্তির যুগে সেই দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। মুঠোফোন আর ইন্টারনেটের কারণে হারিয়ে গেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা, ফুরিয়ে গেছে হাতে লেখা চিঠির অপেক্ষা।

সরেজমিনে কালিয়াকৈর পৌরসভার কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস ও চাপাইর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সাব-পোস্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, আগের সেই ভিড় নেই। লাল রঙের চিঠির বাক্সটিতে মরিচা ধরেছে। কর্মচারীরা বসে আছেন নীরবে।

পোস্ট অফিসের দেয়ালে টাঙানো “ডাক ঘর POST OFFICE” সাইনবোর্ডটিও জরাজীর্ণ। একটি পোস্ট অফিসের সামনে জরাজীর্ণ লাল চিঠির বাক্স। এখন আর তেমন চিঠি পড়ে না এখানে। পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার বলেন,২০-২৫ বছর আগেও প্রতিদিন ১৫০-২০০ ব্যক্তিগত চিঠি আসত। প্রবাসীদের চিঠি, চাকরির নিয়োগপত্র, মানি অর্ডার -মানুষ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়াত। ডাকপিয়ন সাইকেল নিয়ে বের হলে গ্রামের মানুষ দৌড়ে আসত। এখন মাসে ৫-৬টা ব্যক্তিগত চিঠিও আসে না। সব কাজ এখন অনলাইনে।

কালিয়াকৈর এলাকার ডাককর্মী বলেন,আগে সকালে ব্যাগ ভর্তি চিঠি নিয়ে বের হতাম। এখন ব্যাগে চিঠির বদলে পার্সেল, ব্যাংকের কাগজ আর সরকারি নোটিশ বেশি থাকে। সাইকেলের ঘণ্টির শব্দ শুনে মানুষ আর ছুটে আসে না। কারণ সব খবর মোবাইলেই পেয়ে যায়।

কালিয়াকৈরের প্রবীণ বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ বলেন, ছেলে সৌদি থাকত। মাসে একটা চিঠি আসত। সেই চিঠির জন্য ১৫ দিন আগে থেকে অপেক্ষা করতাম। ডাকপিয়ন চিঠি দিলে সবাই মিলে বসে পড়তাম। চোখের পানি আর হাসি একসাথে আসত। এখন ভিডিও কলে কথা হয়, কিন্তু কাগজের উপর হাতের লেখার স্পর্শটা নাই।

গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের কার্ডও একসময় চিঠিতে আসত। সেই কার্ড আমি এখনো আলমারিতে যত্ন করে রেখেছি। আজকের পোলাপান চিঠি কী জিনিসই চেনে না।

স্থানীয় শিক্ষক মো.জামাল বলেন, আজকের প্রজন্ম হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারেই বড় হচ্ছে। তাদের কাছে চিঠি লেখা মানে ইতিহাস। কিন্তু আমরা যারা চিঠির যুগ দেখেছি, তারা জানি একটি খামের মধ্যে কত আবেগ, কত অপেক্ষা লুকিয়ে থাকত।

পোস্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন ডাক বিভাগের আয়ের বড় অংশ আসে পার্সেল, ব্যাংকিং ও সরকারি কাজ থেকে। ব্যক্তিগত চিঠি প্রায় শূন্যের কোঠায়।

চিঠির ব্যবহার কমেছে, ডাকপিয়নের ব্যস্ত দিনও হারিয়ে গেছে। তবু কালিয়াকৈরের প্রবীণদের স্মৃতিতে আজও বেঁচে আছে একটি ছোট্ট খামের গল্প। যে খামের মধ্যে থাকত প্রিয় মানুষের হাতের লেখা, অপেক্ষার আবেগ আর ভালোবাসা।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।