খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

হিন্দু কিশোরের প্রেমের টানে গাজীপুর থেকে মুসলিম কিশোরী বরগুনার পাথরঘাটায়

মো : আব্দুল বাতেন বাচ্চু
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
হিন্দু কিশোরের প্রেমের টানে গাজীপুর থেকে মুসলিম কিশোরী বরগুনার পাথরঘাটায়

ধর্মীয় ও পারিবারিক শিক্ষার অভাববের কারণে,তাবাসসুম (১৬)নামের এক কিশোরী গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে প্রেমের টানে  বরিশালের পাথরঘাটায় চলে যায় মেয়েটি। ছেলেটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলেটির নাম শুভ বলে জানা যায়। উভয়ের সমবয়সী হওয়ায় স্থানিয়রা তাদের পাথরঘাটা থানায় নিয়ে যায়। মেয়েটির বাড়ি গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের আমতলা এলাকায়, আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। সচেতন মহল বলছে, বর্তমান সমাজে এ ধরনের ঘটনাগুলো সত্যিই উদ্বেগের এবং চিন্তার বিষয়। পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা কমে যাওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

​এই ঘটনা বা পরিস্থিতির পেছনের দিকগুলো বিবেচনা করলে কয়েকটি বিষয় সামনে আসে: ​পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ: পরিবারের সাথে সন্তানদের দূরত্ব এবং খোলামেলা আলোচনার অভাব অনেক সময় কিশোর-কিশোরীদের ভুল পথে পরিচালিত করে।​ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা: সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন মানুষকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। এর ঘাটতি থাকলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি না ভেবে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেন।​আইনগত ও সামাজিক পদক্ষেপ: এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনতা বা প্রশাসন আইন অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমেই বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পারে। উক্ত ঘটনায় নেটিজেনদের অভিমত এবং বহিঃপ্রকাশ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফেসবুকের মাধ্যমে অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য তুলে ধরছেন। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ঘটনায় মানুষ সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মতামত বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে থাকেন। কেউ কেউ সহানুভূতি বা উদ্বেগের জায়গা থেকে কথা বলেন, আবার অনেকেই কঠোর সমালোচনা বা বিচার করার প্রবণতা দেখান। ​অনেক সময় ইন্টারনেটের এই খোলা জায়গায় প্রকৃত প্রেক্ষাপট না জেনে মন্তব্য করার ফলে ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তিও ছড়াতে পারে। এটি মানুষের সহনশীলতা এবং মানসিকতার একটি প্রতিফলন।

 

​এ ধরনের ঘটনায় অন্ধের মতো মন্তব্য না করে সহানুভূতিশীল হওয়া এবং বিষয়টির গভীরতা বোঝার চেষ্টা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।শেষ পর্যন্ত এটি কোথায় গিয়ে থামে এবং কীভাবে সমাধান হয়, তা নির্ভর করবে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর। আশা করা যায়, সব পক্ষের জন্য একটি ইতিবাচক সমাধানই আসবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে যখন একটি মেয়ে ভিন্ন ধর্মের বা সংস্কৃতির কোনো ছেলের সাথে চলে যায়, তখন প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ​ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির সম্মতির ওপর জোর দেওয়াটা একটি ইতিবাচক দিক। তবে, মেয়েটির পরিবারের কোনো মন্তব্য না থাকায়, বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ​এখন দেখার বিষয়, মেয়েটি নিজে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার অভিভাবকরা কীভাবে পুরো পরিস্থিতিটি দেখেন। কম বয়স ও অপরিপক্কতার কারণে এমন আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। এই বয়সে জীবনের জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিণতিগুলো পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন। তাছাড়া, বাংলাদেশে বিয়ের জন্য যে আইনগত বয়স, তা না মেনে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়,আইনত দণ্ডনীয়।​

 

এক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধি এবং প্রশাসন এ ধরনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা উভয় পরিবারকে বোঝানো, সঠিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং আইনগত প্রক্রিয়া মেনে সবকিছুর সমাধান করার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। অভিভাবকহীন তরুণদের সঠিক পথে ফেরাতে এই সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। ভিন্ন ধর্মের রীতিনীতি এবং সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক,এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সচেতনতা থাকলেই ভুল বোঝাবুঝি বা বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব। আইনের শাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক হস্তক্ষেপ এই ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতির সমাধানে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

​এক্ষেত্রে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং পারিবারিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং পরিবার বা অভিভাবকরা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে বুঝিয়ে সুস্থভাবে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এই সংকট উত্তরণে অত্যন্ত কার্যকর এবং মানবিক একটি পদক্ষেপ হতে পারে। কারণ এই বয়সের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তগুলো দূর করার জন্য পরিবারের সরাসরি উপস্থিতি ও আন্তরিক আলোচনা খুবই জরুরি।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।