খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

পুষ্পা-২’র টিকিট বিক্রিতে ভাটা, এলো রাম চরণের গেম চেঞ্জার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
পুষ্পা-২’র টিকিট বিক্রিতে ভাটা, এলো রাম চরণের গেম চেঞ্জার

ঘোষণার ৫ বছর পর গতকাল (১০ জানুয়ারি) শুক্রবার মুক্তি পেল দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা ‘গেম চেঞ্জার’। রাম চরণ ও কিয়ারা আদভানি অভিনীত এ সিনেমা করোনা মহামারিসহ বেশ কিছু কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল। ছবিটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আল্লু অর্জুনের পুষ্পা-২ ছবির টিকিট বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘গেম চেঞ্জার’ নির্মাণের ঘোষণা আসে। সেবছর সেপ্টেম্বরে এর শুটিং শুরু হয়। ‘গেম চেঞ্জার’ নির্মাণ করেছেন পরিচালক এস শংকর। এটি মুক্তির প্রথম দিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কত আয় করেছে তা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের প্রাথমিক তথ্য অনুসারে ভারতজুড়ে ২৫ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে ছবিটি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ কোটি টাকারও বেশি। মুক্তির প্রথম দিনে ‘গেম চেঞ্জার’ ভারতজুড়ে তেলেগু ভাষায় প্রায় ৩৮৬৩টি শো, তামিল ভাষায় এটি প্রায় ৬৫০টি, হিন্দিতে ২৪৮৫টি শো হয়েছে। ভারতজুড়ে সিনেমাটির ৭৫০০টিরও বেশি শো হয়েছে। স্যাকনিল্কের মতে, ‘গেম চেঞ্জার’ ভারতে বিভিন্ন ভাষায় অগ্রিম বুকিংয়ে ৪৩ দশমিক ৫৫ কোটি রুপি আয় করেছে। এটি অন্ধ্র প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে। এ প্রদেশে আয়ের পরিমাণ, ১৩ দশমিক ০৭ কোটি রুপি এবং তেলেঙ্গানায় ৬ দশমিক ৪১ কোটি রুপি। দিল্লিতে সিনেমাটি তার অগ্রিম বুকিংয়ে ১ দশমিক ০৫ কোটি রুপি আয় করেছে। ‘গেম চেঞ্জার’ সিনেমায় রাম চরণকে দুটি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। একটিতে তাকে মাথা গরম তরুণের চরিত্রে দেখা যাবে। তার এই চরিত্রটি দর্শককে মুগ্ধ করেছে। অন্যটি গ্রামের একজন রাজনীতিকের।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।