খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

অভ্যুত্থানের অগ্রভাগ থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ১:২৮ অপরাহ্ণ
অভ্যুত্থানের অগ্রভাগ থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বে

তারা ছিলেন শিক্ষাঙ্গনের নানা অসঙ্গতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর। সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তারা। রাজপথে গড়ে তোলেন আন্দোলন। সেই আন্দোলন দমনে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। স্বৈরাচারের লেলিয়া দেওয়া বাহিনীর গুলিতে রাজপথে রক্তের নদী বয়ে যায়। ঝরতে থাকে শত শত তরতাজা প্রাণ। এক পর্যায়ে তারা স্বৈরাচারের পতনেরই ডাক দেন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলন দুর্বার করে তোলে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও গদি টেকেনি স্বৈরাচারের। গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে যান ভারতে।

সেই অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে যারা ছিলেন তাদের উদ্যোগে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের। তারুণ্যনির্ভর এ রাজনৈতিক দলের নাম দেওয়া হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি)। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফার ঘোষক মো. নাহিদ ইসলামকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক আখতার হোসেনকে। এছাড়া অন্যান্য শীর্ষ নেতা হিসেবে যাদের নাম ঘোষিত হয়েছে, তারাও জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনের সামনের ভাগেই ছিলেন।

স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন
দেশের শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজে যে কোনো অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতিবাদীর ভূমিকায় দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ অন্যদের। এদের মধ্যে আখতার-আসিফরা হাসিনার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

২০২৪ সালের জুন মাসে হাইকোর্টের রায়ে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন তারা। সেখানে সমন্বয়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, উমামা ফাতেমা, সারজিস আলম, আবু বাকের মজুমদার, মাহিন সরকার, আব্দুল হান্নান মাসউদ, নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, রিফাত রশীদ প্রমুখ।

১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রাজাকার’ বলায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্রতর হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগসহ সরকার সমর্থকরা। যা আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে। রংপুরে বিক্ষোভের সময় পুলিশ একেবারে কাছ থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করলে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে জনরোষের তৈরি করে। এর মধ্যে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশ-র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনী আরও বলপ্রয়োগ করলে শিক্ষার্থীরা অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ৩ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। ৪ আগস্ট শেখ হাসিনা তার দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অস্ত্রসজ্জিত করে মাঠে নামালে গোটা দেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীরা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা করেন। সেদিন লাখ লাখ জনতা গণভবন অভিমুখে রওয়ানা দিলে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। টানা ২০ দিনের আন্দোলনে প্রায় দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে মাধ্যমে পতন ঘটে স্বৈরাচার সরকারের।

অন্তর্বর্তী সরকারে অংশগ্রহণ, ‘প্রেসার গ্রুপেরও’ ভূমিকায়
হাসিনার সরকারের বিদায় ঘটলে ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বতী সরকার। এ সরকারে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব নেন মো. নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ। শিক্ষার্থীদের অন্য একটি অংশ অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতার পাশাপাশি ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করারও পন্থা নেয়। এক্ষেত্রে নেতৃত্বভাগে ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আবদুল কাদের, মাহিন সরকারসহ অন্যরা।

আনসারদের বিদ্রোহ, আহতদের আন্দোলনসহ নানা ক্ষেত্রে সমাধানে উদ্যোগীর ভূমিকায় দেখা গেছে হাসনাত-সারজিসদের। এর মধ্যে গত বছরের শেষ দিক থেকে তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের আলোচনা তৈরি হয়। তার আগে অবশ্য অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নাগরিকদের নিয়ে সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠিত হয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে, আর সদস্য সচিব করা হয় আখতার হোসেনকে। মুখপাত্র করা হয় সামান্তা শারমিনকে। এছাড়া কমিটিতে মানজুর আল-মাতিন, ডা. তাসনিম জারা ও সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের মতো পরিচিতমুখকেও রাখা হয়।

তরুণদের রাজনৈতিক দলের আলোচনা তৈরি হলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। বলা হয়, কোনো উপদেষ্টা সরকারে থাকলে রাজনৈতিক দল গঠনে থাকতে পারবেন না। এর কিছু দিনের মাথায় নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ
নানা আলোচনা-পর্যালোচনার পর ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’র আত্মপ্রকাশের দিনক্ষণ ঠিক করা হয় শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)। স্থান ঠিক করা হয় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। বিকেলে অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও দুপুর থেকেই নতুন এ দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন আয়োজনস্থলে। বিকেল হতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। সোয়া ৪টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা। গীতা থেকে পাঠ করেন অর্পিতা শামা দেব, ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন আবির বড়ুয়া, বাইবেল থেকে পাঠ করেন অলীক মৃ।  এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি, জেএসডি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এলডিপি, ইসলামী ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এছাড়া কিছু দেশের কূটনীতিকও যোগ দেন অনুষ্ঠানে। ছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। নতুন দলের নেতাদের বক্তব্যের পর জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির’ আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দলের প্রধান দুই নেতা অর্থাৎ আহ্বায়ক হিসেবে মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। পরে আখতার হোসেন ‘সুপার টেন’ বা শীর্ষ ১০ পদসহ বেশ কিছু পদে দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়া অন্য শীর্ষ আট পদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে তাসনিম জারা ও নাহিদা সরোয়ার নিভা, প্রধান সমন্বয়কারী পদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সমন্বয়ক পদে আব্দুল হান্নান মাসউদ, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) পদে হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদে সারজিস আলমের নাম ঘোষণা করেন আখতার।

এরপর বক্তব্য দেন আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এখনই সময়—নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পথচলার, এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার! আমরা পেছনের ইতিহাস অতিক্রম করে সামনের স্বপ্নের কথা বলতে চাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্লোগান উঠেছিল, ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প বিকল্প’। সে জায়গা থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।  এসময় নাহিদ বিভাজনের রাজনীতির অবসানের কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে দুর্বল করে রাখার যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, আমরা তা ভেঙে দিয়েছি। বাংলাদেশকে আর কখনো বিভাজিত করা যাবে না। বাংলাদেশে ভারতপন্থী বা পাকিস্তানপন্থী কোনো রাজনীতির ঠাঁই হবে না।

ঘোষণাপত্রে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়
অনুষ্ঠানে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াই সূচনা করেছে। একটি গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদেরকে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সকল সম্ভাবনার অবসান ঘটাতে হবে। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে আমাদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই কেবল আমরা একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবো। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ চাই যেখানে সমাজে ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিভেদের বদলে ঐক্য, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচার এবং পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধা ও যোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান হবে না। তিনি বলেন, আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে মূলধারায় তুলে আনা হবে। আমাদের রিপাবলিকে সাধারণ মানুষ, একমাত্র সাধারণ মানুষই হবে ক্ষমতার সর্বময় উৎস। তাদের সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারের শক্তিশালী সুরক্ষাই হবে আমাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র। আমরা রাষ্ট্রে বিদ্যমান জাতিগত, সামাজিক, লিঙ্গীয়, ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে একটি বহুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের রিপাবলিক সব নাগরিককে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শক্তিশালী সুরক্ষা দেবে। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর কোনো অংশকেই অপরায়ন করা হবে না। বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে সমান গুরুত্ব প্রদান ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একটি ন্যায্যতা ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দলের সংকল্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেই বিজয় নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও শপথ। চলুন আমরা একসঙ্গে, হাতে হাত রেখে, এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হবে, যেখানে  ন্যায় প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকারের সংগ্রামই হবে রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য। যেখানে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। এখনই সময়—নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পথচলার, এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার!

 

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই নতুন বাংলাদেশ গড়ায় আমরা সবাই প্রত্যেকে যার-যার অবস্থান থেকে শপথ করি। ঐক্যবদ্ধ হই এবং আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যাই। আমাদের দেশ, আমাদের অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ—আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক অধরা কোন স্বপ্ন নয়, এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা!

স্বাগত জানাল বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যরা
আত্মপ্রকাশের পর জাতীয় নাগরিক পার্টিকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সেটি পরিচর্যা করে। আমরা আশা করব নতুন যে রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ ঘটল তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য কাজ করবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বাংলানিউজকে বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে এবং আগামী দিনের দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে, এটিই প্রত্যাশা। গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা এই নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানাই। এই দল তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে, যারা জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। অনেকেই নেতৃত্বের জায়গায় ছিলেন। এরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণে যে ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা আছি, সেখানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরেও ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য রক্ষা করার জন্যে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, জনগণের ভেতর থেকে দল গড়ে তোলার কাজ করবে সেই প্রত্যাশা করি।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।