নির্বাচনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে: বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর হেফাজত
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা, সংবিধানে বহুত্ববাদ বাদ রাখাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি বৈঠকের পর হেফাজতে ইসলাম দাবি করেছে, ‘নির্বাচনি রাজনীতি থেকে হেফাজত সবসময়ই মুক্ত থাকবে। রবিবার (৬ এপ্রিল) হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এদিন বিকাল ৪টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদের পরামর্শে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে প্রেস রিলিজটি দেওয়া হয়।
হেফাজতের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেফাজতে ইসলাম একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ ধরনের কোনও বক্তব্য হেফাজত থেকে দেওয়া হয়নি। হেফাজত কখনও কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। নির্বাচনি রাজনীতি থেকেও হেফাজত সবসময়ই মুক্ত থাকবে। হেফাজতের নাম বিক্রি করে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াবলিতে হেফাজত জনগণের পক্ষেই সবসময় মতামত দেয় এবং ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হেফাজতের অবস্থান আগের মতোই অবিচল থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপির মতো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও হেফাজত বৈঠক করবে।
হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে আটটি বিষয়ে বিএনপিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ বহাল রাখা ও ‘বহুত্ববাদ’ শব্দ না ঢুকাতে বিএনপিকে সরব হওয়া; শাপলা চত্বর ও জুলাই-আগস্টের ‘গণহত্যার’ দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার কাজ দ্রুত শুরু; প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে কোনও আপত্তি না থাকা; ‘তৌহিদি জনতা’ ও আলেম-ওলামার বিরুদ্ধে যায়—এমন কথাবার্তা বলা থেকেও বিরত থাকা।
এছাড়া ‘বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ ও ওলামায়ে কেরাম যে অসন্তুষ্ট, তা বিএনপিকে জানানো হয়েছে’ বলা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।



আপনার মতামত লিখুন