খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

দেশে এখনও হার্টের রিংয়ের দাম তুলনামূলক বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশে এখনও হার্টের রিংয়ের দাম তুলনামূলক বেশি

চর্বি জমে বা অন্য কোনও কারণে হৃদযন্ত্রের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ বা বন্ধের উপক্রম হলে, ওষুধের মাধ্যমে তা ঠিক না হলে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়া সচল রাখতে রিং বা করোনারি স্টেন্ট পরানো হয়। দেশে রিং বা করোনারি স্টেন্টের দাম নির্ধারণ করে দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কিন্তু মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে, একই কোম্পানির একই ব্র্যান্ডের হার্টের রিং ভারতের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, দেশে রিংয়ের দাম ১৪ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। ভারতের রিংয়ের দামের সঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আয়ারল্যান্ডের এবোট ভাসকুলারের জিয়েন্স প্রাইম রিংয়ের দাম বাংলাদেশে ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা, ভারতে এটার দাম ২২ হাজার ৫০০ রুপি যা বাংলাদেশি টাকায় ৩২ হাজার ৯৫ টাকা। জিয়েন্স আলপাইন রিংয়ের দাম এক লক্ষ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা, ভারতে দাম ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা। জিয়েন্স এক্সপেডিশানের দাম বাংলাদেশে ৭১ হাজার ৫০০ টাকা, ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন সাইন্টিফিকের সিনার্জি রিংয়ের দাম ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা হলেও বাংলাদেশে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা, প্রমাস এলিটের দাম ভারতে ৩২ হাজার ৯৫ টাকা, বাংলাদেশে ৭৯ হাজার টাকা।  ভারতে তৈরি মেটাফর ব্র্যান্ডের স্টেন্টের দাম বাংলাদেশে ৪০ হাজার টাকা, ভারতে ৩২ হাজার ৯৫ টাকা। বায়োমাইম রিংয়ের দাম বাংলাদেশে ৪৫ হাজার টাকা, ভারতে যার দাম ৩২ হাজার ৯৫ টাকা। আয়ারল্যান্ডের তৈরি রিসোলুট ওএনওয়াইএক্স রিংয়ের দাম বাংলাদেশে এক লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা হলেও ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা। রিসোলুট ইন্টেগ্রিটির রিং দেশের বাজারে ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা, ভারতে বিক্রি হয় ৩২ হাজার ৯৫ টাকায়। জাপানের আল্টিমাস্টার তেনসেই রিংয়ের দাম বাংলাদেশে ৬৬ হাজার টাকা, ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা। সুইজারল্যান্ডের ওরসিরো ব্র্যান্ডের দাম বাংলাদেশে ৬৩ হাজার টাকা, ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা। দুই দেশের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বেশ কিছু ব্র্যান্ডের একই মানের রিংয়ের দাম ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি। কিছু কোম্পানির রিংয়ের দাম দ্বিগুণ এবং কিছু রিংয়ের দাম প্রায় তিন গুণ।

 

এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর হার্টে রিং বসানোর নামে নানা অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের জিম্মি করে একটি চক্র, কিছু অসাধু চিকিৎসক ও কর্মচারীর যোগসাজশে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।  রাজধানীর পুরান ঢাকায় বসবাস করা পঞ্চাশোর্ধ ফজলুর রহমান প্রায় বছর দুয়েক আগে বুকে ব্যথা অনুভব করলে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হোন। চিকিৎসকেরা তখন তাকে হার্টে রিং লাগানোর পরামর্শ দেন। ফজলুর রহমানের রিং লাগানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা না থাকার বিষয়টি চিকিৎসককে জানান। তখন চিকিৎসক তাকে কিছু নিধি নিষেধ, নিয়ম-কানুন মেনে চলার সঙ্গে কিছু ওষুধ নিয়মিত সেবনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে যেন রিং লাগিয়ে নেন। তিন মাস পরে আবারও চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে আগের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যেতে বলেন। ফজলুর রহমান এখনও মোটামুটি ভালো আছেন। অভিযোগ রয়েছে, কারও কারও হার্টে রিং পরানোর প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও কিছু অসাধু চিকিৎসক কমিশনের লোভে পড়ে রোগীদের রিং লাগিয়ে দেন অথবা রিং লাগানোর পরামর্শ প্রদান করেন। যদিও চিকিৎসকেরা এসব অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ফজলুর হার্টে যে পরিমাণ ব্লক ছিল, ওষুধ দিয়ে হয়তো তার চিকিৎসা করানো সম্ভব ছিল। তাই নিয়মিত ওষুধ খেয়ে তিনি এখন ভালো আছেন। তবে তাকে নিয়মিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলতে হবে। কিছু অসাধু চিকিৎসক প্রয়োজন না থাকলেও ওষুধের পরিবর্তে রিং বসানোর জন্য উৎসাহিত করেন, যা একেবারেই নৈতিকতা বিরোধী।

 

কোনো রকম কমিশন প্রদানের কারণে রিংয়ের দাম কম বেশি হয় কি না জানতে চাইলে স্থানীয় একজন আমদানীকারক এবং মেডিকেল ডিভাইস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের রিংয়ের যে প্রাইসিং করা আছে, সেখানে রিটেলারদের জন্য একটা কমিশন দেওয়া আছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটা নেন। মেডিকেল ডিভাইস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আরেক নেতা বলেন, প্রত্যেকটা কার্ডিওলজিস্টের একটা নির্দিষ্ট পছন্দ আছে, যে আমি এই কোম্পানির রিং ব্যবহার করবো। দেশে যে সব রিং কোম্পানি আছে, যে যাকে, যেভাবে ম্যানেজ করতে পারে, সেটা তাদের ব্যাপার।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত। টাকার অভাবে অনেক রোগী হার্টে রিং বসাতে পারছেন না। অনেকেই আবার বহুকষ্টে ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। উন্নত মানের রিং লাগানোর কথা বলে নিম্নমানের রিং লাগানো হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি দরকার।

 

দেশে রিংয়ের দাম ভারতের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কেন, জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা শতভাগ ব্যবসা করে, পাঁচ টাকার পণ্য কিনলে তাদের ১০ টাকা বিক্রি করতে হবে। অন্যান্য দেশে এতো লাভে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। সরকারের ট্যাক্স দাম বাড়ার ক্ষেত্রে একটা কারণ হতে পারে। ডলার ক্রাইসিসও একটা কারণ হতে পারে। ডলারের দাম বাড়ার ছুতো দিয়ে তারা পণ্যের দাম দুই আড়াইগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মনোপলি করে দুই চারজন লোক এই ব্যবসাটা করে। তাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, ঠিকমতো এলসি খুলতে পারে না, পর্যাপ্ত পরিমাণ আনতে পারে না, এসব কারণেই হয়তো দেশে রিংয়ের দাম বেশি।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।