খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে এনায়েত করিম

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে এনায়েত করিম

৫ই আগস্টের আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদে যুক্ত থাকা অসংখ্য নেতা কর্মীরা। দেশের সাধারণ মানুষকে আওয়ামী সরকার নির্যাতন, নিপীড়ন, চালিয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছর। হাসিনার আমলে যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং সাধারণ জনতার উপর নির্যাতন করেছে তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং যারা পলাতক থেকে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকেও একে একে খুঁজে বের করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ধানমন্ডি বসে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যোগাযোগ এবং সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের একান্ত সহযোগী হিন্দু মুসলিম মৈত্রী বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ এনায়েত করিম। এনায়েত করিম সাবেক আওয়ামী লীগের নেতা। সে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নামে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থেকে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ও ভারতের পালিয়ে থাকা একাধিক নেতাদের সহযোগিতায় ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র করছে। গোয়েন্দা ও বিশেষ সূত্র জানায়, ফ্যাসিবাদের দোসর এনায়েত করিম ও তার ভাই হারিছুর রহমান ১৬ বছরে টাকার কুমির হয়েছেন। সে শুধু ওবায়দুল কাদের নয়, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মদতে বেপরোয়া থাকলেও স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর আশির্বাদপুষ্ট ছিলেন।

আশির্বাদপুষ্ট থাকার কারণে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এনায়েত করিম ও হারিছুর দু- ভাই মিলে আওয়ামী সরকারের ১৬ বছর শাসন আমলে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং দেশ বিদেশে অসংখ্য অর্থ পাচারে সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্য জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ দোসর এনায়েত করিম এনামের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার উপর গুলি করার অপরাধে একাধিক অভিযোগ ও তার নামে সরকার বিরোধী মামলাও আছে বেশ কয়েকটি। বর্তমান সে পলাতক। সে আত্মগোপনে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানান ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। অভিযোগ রয়েছে, এনায়েত করিম বিপুল অর্থের মালিক। এজন্য নিজ অর্থায়নে ২০১৬ সালে শেখের জীবন কাহানী নাটক মঞ্চস্থ তৈরি করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা এনায়েত করিম। গোয়েন্দারা নিশ্চিত করে বলেন, এনায়েত করিমের বাবার নাম মৃত ইদ্রিস মিয়া। এনায়েত মাঝে মাঝে নিউ ১১ নং ধানমন্ডির ৩/এ গোল্ড হাউসের ৩৮ নম্বার বাড়িতে অবস্থান করেন। মাঝে মাঝে সেখান থেকে হারিয়ে যান। সূত্র জানায়, এনায়েতের ছোট ভাই গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. হারিছুর রহমান হারিছ। হারিছ বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ছিল । গৌরনদী থানায় তার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার উপর হামলা, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনে চারটি মামলা রয়েছে। শুধু হারিছুর নয় তার বড় ভাই এনায়েতের নামেও রয়েছে একাধিক মামলা। গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে চাঁদাবাজি, হামলা-মারামারি ও বোমা বিস্ফোণের অভিযোগে চলতি মাসে ও গৌরনদী থানায় হারিছুর রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রুজু হয়। বিএনপির ৪ নেতাকর্মীদের দায়ের করা চারটি মামলাতেই হারিছকে প্রধান আসামি করা হয়। ওই চারটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার ও দেখানো হয়েছে।
কে এই আওয়ামী লীগের দোসর এনায়েত করিম : এনায়েত করিম আওয়ামী সরকারের সময় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। যদিও নামমাত্র এই সংগঠনের পরিচয় দিতেন বিভিন্ন মহলে। তার সব কথা ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে। এনায়েত ফটো জানালিস্ট এসোসিয়েশনকে কাজে লাগিয়ে ১৬টি বছর লুটেপুটে খেয়েছেন। তাছাড়া তার ভাই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মেয়র হওয়ার কারণে অত্র এলাকাসহ সারাদেশে একটি আধিপত্যের গ্যাং তৈরি করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট এনায়েত শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত দোসর হিসেবে পরিচিত। সে একটি সাংবাদিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করত। এবং দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। অভিযোগ আছে- এনায়েত করিম ও তার ছোট ভাই হারিছুর রহমান ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে অর্থ পাচার করেছে। স¤প্রতি গোয়েন্দারা এনায়েতদের বিরুদ্ধে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের সকল তথ্য পেয়ে হৈন্য হয়ে খুঁজছে বলে জানা গেছে। এই বিষয় জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র (এআইজি) এনামুল হক সাগর বলেন, স¤প্রতি এনায়েত করিমের ছোট ভাই হারিছুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তবে তার বড় ভাই এনায়েত করিম নজরদারিতে রেখেছে গোয়েন্দারা। যেকোনো সময় যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ প্রয়োগ করে দেশ বিদেশী ষড়যন্ত্র ও জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার উপর গুলি করার অপরাধে তাকে ও গ্রেপ্তার করা হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা একাধিক মামলার আসামী বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টানা তিনবারের মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক হারিছুর রহমানকে ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ওই শেষ কার্যদিবসে বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাহ ফারজানা তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হারিছের গ্রেপ্তারের খবরে গৌরনদীজুড়ে দিনভর মিষ্টি বিতরণ এবং জুতা ও ঝাড়– মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। হারিছের ক্ষমতার থাবায় এতদিন ভয়ে চুপ থাকলেও গ্রেপ্তারের পর তার (হারিছ) অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে থাকেন। এলাকাবাসী জানান, হারিছুর রহমান গ্রেপ্তার হলেও তার অপকর্মের শেল্টারদাতা ও মূল হোতা তার বড় ভাই এনায়েত করিম এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা লক্ষ্য করছি সে এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে অনুরোধ তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য অনুরোধ করছি। উপজেলার তথ্য মতে জানা যায়, বরিশাল-১ আসনের সদ্য সাবেক সাংসদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর আশির্বাদপুষ্ট হারিছ এক ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন টানা তিনবার। শুধু গৌরনদী পৌরসভা নয়; হারিছের রাজনীতির থাবা ছিল পুরো গৌরনদী উপজেলাজুড়ে। তারা আরো বড় একটি ক্ষমতা ছিল তার ভাই এনায়েত করিম। এনায়েতের সাথে ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সখ্যতা। এছাড়াও ভিন্নমতাদর্শী নেতাকর্মীদের হত্যাচেষ্টা, টর্চার সেলে নিয়ে নিজহাতে অমানুষিক নির্যাতন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক নিজ দলে যোগদান করানো ও সাংবাদিক সংগঠনে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন হারিছ। এমনকি বির্তকিত এই হারিছের হাত থেকে রেহাই পায়নি প্রকৃত ত্যাগী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। এই বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা জানান, যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। এবং যারা শেখ হাসিনার সরকারের সময় কোটি কোটি টাকার মালিক ও বিদেশে অর্থ পাচার করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে অর্থ পাচার ও তারা ১৬ বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক কিভাবে হয়েছেন সেটা জানা উচিত। তাছাড়া এসব বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর আরো কঠোর হওয়া উচিত এবং অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং দেশের মানুষের কাছে অনুরোধ সে যদি কোথাও পালিয়ে থাকে তাহলে তাকে ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করুন। তাছাড়া তার বিষয়ে যদি আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকে আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে দিলে গোয়েন্দারা এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।