খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

যুগ্ম-পরিচালকের ছত্রচ্ছায়ায় দিনাজপুর বিএডিসিতে অনিয়মের রাজত্ব

মুকুল চ্যাটার্জী, দিনাজপুর
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
যুগ্ম-পরিচালকের ছত্রচ্ছায়ায় দিনাজপুর বিএডিসিতে অনিয়মের রাজত্ব
২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি বিএডিসির সার বিভাগে ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম-পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি যোগদানের পর থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অফিসটি ভরে গেছে। প্রভাবশালী কয়েকজন ডিলার একত্রে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এসব হচ্ছে যুগ্ম-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ মদতে। ফলে মাঝে মাঝে জেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে বিক্রয় করছে সিন্ডিকেটের ডিলাররা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুর বিএডিসির পরিচালক (সার) এর কার্যালয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় শতাধিক ডিলার এসে সারের ডিও (মেমো) কাটেন। প্রত্যেক ডিলারকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি মেমোর জন্য ৫ শত টাকা করে দিতে হয়। এই যুগ্ম-পরিচালক (সার) এর কার্যালয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী ডিলার এই সিন্ডিকেটটি করেছেন। এই ডিলার সিন্ডিকেটটি যুগ্ম-পরিচালককে তাদের মতো করে পরিচালনা করেন। এই অফিসে প্রতি পদে পদে ডিলারদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

মেমো নিয়ে নির্দিষ্ট গুদামে সার নিতে গেলে প্রতি বস্তা সারের জন্য আবার আলাদা আলাদাভাবে টাকা দিতে হয়। যেমন, এমওপি সারের জন্য ৫০ টাকা, ডিএপি সারের জন্য ১ শত টাকা দিতে হয়। কোন সারের বস্তার জন্য কত টাকা দিতে হবে, তা গুদাম রক্ষকদেরকে নির্ধারণ করে দেন যুগ্ম-পরিচালক।

সাবেক যুগ্ম-পরিচালক শওকত হোসেন থাকাকালীন ডিলার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছিলেন এবং অফিসে অনিয়ম এবং দুর্নীতি রোধ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান যুগ্ম-পরিচালক দিনাজপুরে যোগদানের পর থেকেই আবারো সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই প্রভাবশালী ডিলাররা সার ক্রয় করলেও নিজ গুদামে না নিয়ে বিএডিসির গুদামেই অবৈধভাবে মজুদ গড়ে তুলছেন।

এর কারণ হিসাবে জানা গেছে, সিন্ডিকেটের ডিলাররা একজনেই বিভিন্ন ডিলারের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করেন। এই উত্তোলিত সারগুলো নিজের গুদামে নিয়ে গেলে তদন্তে ধরা পড়ার ভয়ে বিএডিসির গুদামে অবৈধভাবে মজুদ করা হয়। আর এই মজুদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় ডিলারদের। এইভাবে অবৈধ মজুদের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে সারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে এবং ডিলাররা বেশি দামে সাধারণ কৃষকদের কাছে সার বিক্রয় করছে। এইভাবে দিনের পর দিন সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যুগ্ম-পরিচালক ডিলারদের এইসব কার্যকলাপ জানতে পারলেও চুপচাপ থাকছেন।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার বীজ মনিটরিং কমিটি বীজ ডিলারদের সার ডিলারে উন্নীত করার জন্য ৮১ জনের তালিকা জেলা বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু ৩০ জনকে প্রচুর টাকার বিনিময়ে সার ডিলারে উন্নীত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে এমন ব্যক্তিকেও সার ডিলার হিসেবে উন্নীত করা হয়েছে, যাদের দোকান এবং গুদাম নেই।

সম্প্রতি দিনাজপুর অঞ্চলের বিএডিসির বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষিত সারগুলো পুনরায় স্থানান্তরের (রিলোটিং) জন্য সাত লক্ষ টাকার একটি কোটেশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু কোনো ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক প্রতিবেদন (চাক্ষুষ পরিদর্শন) না করে যুগ্ম-পরিচালক সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।

এ বিষয়ে জেলা বীজ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক লিটন বেগকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, যুগ্ম-পরিচালক (সার) এর কার্যালয়টি অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ভরে গেছে। দ্রুত এগুলোর নিরসন হওয়া উচিত। তা না হলে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।