৪৬তম বিসিএস লিখিত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন : চিকিৎসক প্রার্থীদের মানববন্ধন
৪৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর অস্বাভাবিকভাবে কম সংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়া এবং স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক প্রার্থীরা। ফলাফলের স্বচ্ছতা ও শূন্য পদ পূরণের দাবিতে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত চিকিৎসক প্রার্থী ডা. উজ্জ্বল হোসেন জানান, বর্তমান ফলাফল দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য ক্যাডারে এত বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থেকে গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসাসেবা আরও সংকটে পড়বে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, বরং নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ চাই।”
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সার্কুলার অনুযায়ী ৪৬তম বিসিএসে মোট ক্যাডার পদের সংখ্যা ৩,১৪০টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক পদ ছিল স্বাস্থ্য ও মেডিকেল অফিসার (পরিবার পরিকল্পনা) ক্যাডারে। স্বাস্থ্য ক্যাডারে ১,৬৮২টি, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ১৬টি এবং মেডিকেল অফিসার (এফপি) পদে ৪৯টিসহ মোট ১,৭৪৭টি পদ নির্ধারিত ছিল, যা বিসিএস ইতিহাসে অন্যতম বড় নিয়োগ ক্ষেত্র।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন আনুমানিক ১,৫৫৪ জন চিকিৎসক। তবে তুলনামূলক সহজ প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট ২১,৩৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ভাইভার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে মাত্র ৪,০৪৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১৮ শতাংশ।
ফল প্রকাশের পাঁচ দিন পর “কারিগরি ত্রুটি” এর কথা উল্লেখ করে ৮ জনকে উত্তীর্ণ এবং ২ জনকে অনুত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রায় দুই সপ্তাহ পর আরও ২ জনকে অনুত্তীর্ণ হিসেবে সংশোধন করা হয়। দফায় দফায় ফল সংশোধনের এই ঘটনা ফলাফলের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়া টেকনিক্যাল ক্যাডারে মোট উত্তীর্ণ প্রার্থী সংখ্যা প্রায় ৭০০-এর মতো, যার মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারে রয়েছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ জন। ফলে স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রায় ১,৫০০ পদ শূন্য থেকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফলাফল বিতর্কের পেছনে যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছে তার মধ্যে রয়েছে- নির্দিষ্ট সংস্থার সরবরাহকৃত নমুনা উত্তর অনুসরণ করে খাতা মূল্যায়ণের অভিযোগ, দ্রুত নিয়োগের লক্ষ্যে ৫০ শতাংশ পাশ মার্ক নির্ধারণ না করার দাবি, নতুন কমিশনের অধীনে একাধিকবার কারিগরি ত্রুটি এবং ফল প্রকাশের পর রেজাল্ট পরিবর্তনের ঘটনা।
এ বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ‘লিখিত পরীক্ষায় পাশ মার্ক ৪৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নেই।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চিকিৎসক প্রার্থীরা জানান, ‘তারা পিএসসি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে যোগাযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৌখিক আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।’
তারা বলেন, ‘অনেকের জন্য এটি জীবনের শেষ বিসিএস সুযোগ। পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ তাদের ওপর নির্ভরশীল। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্বার্থে এবং ৪৬তম বিসিএসে চিকিৎসকদের ১,৭৪৭টি শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে সরকারি কর্ম কমিশন বিধিমালা ২০১৪-এর ২০(২) উপবিধির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং পিএসসির নিরঙ্কুশ সহযোগিতা কামনা করেন তারা।’



আপনার মতামত লিখুন