খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মতলবে ধানের চারা লাগিয়ে সর্বস্বান্ত কৃষক

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
মতলবে ধানের চারা লাগিয়ে সর্বস্বান্ত কৃষক

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের চার গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক নতুন জাতের ধান চাষ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় ৫০ একর জমিতে আবাদ করা ধানের অধিকাংশ ক্ষেতেই ফলন না আসায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মতলব দক্ষিণ ও দাউদকান্দি সীমান্তবর্তী গোবিন্দপুর, নন্দীখোলা, কাচিয়ারা ও বকচর গ্রামের কৃষকরা চলতি মৌসুমে বিএনআর হাইব্রিড মোটা ধানের আবাদ করেন। স্থানীয় এক ডিলারের কাছ থেকে প্রতি কেজি বীজ সাড়ে ৫০০ টাকা দরে কিনে বীজতলা তৈরি করে নিয়ম অনুযায়ী জমিতে চারা রোপণ করেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, ধান রোপণের পর প্রয়োজনীয় সার, সেচ ও পরিচর্যা যথাযথভাবে করা হলেও ফলন আসার সময় দেখা যায় অধিকাংশ জমিতে ধানের শীষে দানা হয়নি। কোথাও কোথাও সামান্য ধান এলেও সবই চিটা হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদনের আশা নিয়ে চাষ করা কৃষকরা এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।

নন্দীখোলা গ্রামের কৃষক আয়েশা বেগম জানান, তিনি আড়াই একর জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন। ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিচর্যা করা হলেও প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “চার মাস হয়ে গেছে। অথচ ধানের শীষে এখনো চিটা। বীজ সরবরাহকারী কোম্পানির লোকজন বলেছিল একরে ১০০ মণ ধান হবে। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব?”—এ কথা বলতে বলতে জমির আইলে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন কৃষক মাসুদ আলম, গোলাম মোস্তফা, জামাল হাজী, মিজানুর রহমান, আবুল কালামসহ আরও অনেকে। তারা জানান, যথাসময়ে ধানের চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা হলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু ধানে ফলন আসেনি। কোথাও কোথাও শীষ বের হলেও ধান চিটা হয়ে রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, প্রতি একর জমিতে ধান চাষে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এখন ফলন না পাওয়ায় তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন কৃষিজমি ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানগাছ দাঁড়িয়ে থাকলেও শীষে দানা নেই। অনেক কৃষক খড় কাটতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাদের ভাষ্য, খড় কাটতে অতিরিক্ত খরচ হবে, যা বর্তমান অবস্থায় বহন করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বায়ার কোম্পানির পিএনআর মার্কেটিং কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো পরিদর্শন করেছি। মতলবের ক্ষেত্রে অনেক কৃষক আলু তোলার পর ধানের চারা রোপণ করেছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। কৃষকদের সঙ্গে আমরা কাজ করি, তাই তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।”

মতলব দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৈতন্য পাল বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। বীজ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমস্যার কারণ অনুসন্ধানের জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও কোম্পানি আশ্বাস দিয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।