সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) মালিকানাধীন ও শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি শিক্ষক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং সাধারণ শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গভর্নিং বডির দুই শিক্ষক প্রতিনিধি মাসুদ রানা ও মো. নাসির উদ্দীন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সোহানা রহমানকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে আবু হেনা মোস্তফা কামালকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়োগের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট পর্দার আড়াল থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যক্তিস্বার্থ বাস্তবায়নের সুযোগ পায় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রের অভিযোগ, গত প্রায় দেড় বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং ফি, পরীক্ষার খাতা, ডায়েরি, আইডি কার্ড, কম্পিউটার সামগ্রী ও স্টেশনারি ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া ২০১৭ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণকে কেন্দ্র করে ঘুষ দাবির অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, ঘুষ না পাওয়ায় পরবর্তীতে ওই শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দুদকের তদন্তের অজুহাতে চউক চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়াই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অন্যদিকে, শিক্ষক প্রতিনিধি মাসুদ রানার নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রভাষক (হিসাববিজ্ঞান) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী তাহমিনা আক্তারের পরিবর্তে জালিয়াতির মাধ্যমে মাসুদ রানাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তাহমিনা আক্তার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুদ রানা বলেন, “তৎকালীন অধ্যক্ষ নুরুল আলম আমাকে নিয়োগপত্র দিয়েছেন। কোনো জালিয়াতির বিষয়ে আমি অবগত নই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. নাসির উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ফজলুল কাদের বলেন, “সিডিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। ফাইল পর্যালোচনা ছাড়া এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, “সিডিএ এবং সিডিএ-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কোনো অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।



আপনার মতামত লিখুন