খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

লাঠির বাড়ি নয়, বন্ধুত্বের হাত বাড়ান

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
লাঠির বাড়ি নয়, বন্ধুত্বের হাত বাড়ান

নিজের মা-বাবার হাতে সন্তানের মৃত্যু — এটা কোনো গল্পে মানায় না। বাস্তবে ঘটলে কলিজা কেঁপে ওঠে। গত সপ্তাহে খুলনার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় ১৫ বছরের আরফানা হোসেন নির্জনার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিজের বাবার লাঠির ৪টা বাড়ি আর মায়ের নীরব সহায়তায় মেয়েটার জীবন শেষ। কারণ? মেয়ে প্রেম করেছিল। “মান-সম্মান যাবে” এই ভয়ে লাশ গুম করা হয়েছিল।

এই ঘটনা শুধু খবর না। এটা আমাদের সমাজের অন্ধকার দিকের আয়না। আয়নায় দেখা যায়, আমরা এখনো অনেকেই সন্তানকে “আমার” সম্পত্তি ভাবি। ওদের মতকে “বেয়াদবি” ভাবি। আর রাগের এক মুহূর্তে সব শেষ করে দেই।

এই ঘটনা আমাদের ৩টি শিক্ষা দেয়।

*১. সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব করুন: শাসন করুন, কিন্তু কথা বলার রাস্তা বন্ধ করবেন না*

নির্জনার ডায়েরিতে লেখা ছিল, “আব্বু বলেছে প্রেম করলে পায়ের রগ কেটে দিবে। আম্মু শুধু বলেছে চুপ কর।”
মেয়েটা বাসায় বলার মানুষ পায়নি। তাই বাইরে সমাধান খুঁজেছে।

শুধু নির্জনা না।
ফরিদপুরে এসএসসিতে ফেল করায় বাবার বকুনির ভয়ে ১৬ বছরের ছেলে আত্মহত্যা করেছে।

ভারতে “অনার কিলিং” এর নামে প্রতি বছর শত শত তরুণ-তরুণী মারা যায়। কারণ তারা নিজের পছন্দে বিয়ে করতে চেয়েছিল।

ফরিদপুরে ২০২১ – এসএসি পরীক্ষায় ফেল করায় আত্মহত্যা করে। ১৬ বছরের ছেলে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় বাবার বকুনির ভয়ে গলায় ফাঁস দেয়। সুইসাইড নোটে লেখা: “আব্বুকে মুখ দেখাবো কিভাবে?”

চট্টগ্রামে ২০২২ সালে গৃহশিক্ষকের কাছে নির্যাতীত মেয়ে বাবা-মাকে বলতে পারেনি কারণ “পড়াশোনায় ডিস্টার্ব করিস” বলে বকা খাওয়ার ভয় ছিল।

সিলেটে ২০২৩ সালে ১৪ বছরের মেয়ে টিকটক করায় বাবা মারধর করে। মেয়ে পালিয়ে গিয়ে ৩ দিন পর লাশ হয়ে ফেরে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় Turpin সংসারের বড় মেয়েটা ১৭ বছর বয়সে ৯১ এ ফোন করে পালায়। ওদের ১৩ ভাইবোনকে ২০ বছর ঘরে বন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতনকারী বাবা-মা বলতো “বাইরের দুনিয়া খারাপ”। সন্তানদের কথা বলার কোনো মানুষ ছিল না।

ভারতে ২০২০ – দিল্লিতে ১৮ বছরের এক মেয়ে অন্য ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করায় বাবা-চাচারা মিলে খুন করে। পরিবারের “ইজ্জত” রক্ষার নামে কথা বলার সুযোগই দেয়নি।

যুক্তরাজ্যে ২০১৭ সালে ৮ বছরের মেয়েকে খালা-খালু ৮ মাস ধরে নির্যাতন করে মেরে ফেলে। স্কুল, ডাক্তার, সমাজকর্মী ১২ বার সুযোগ পেয়েও মেয়েটার কথা শোনেনি।

জাপানে ২০১৯ সালে পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপে প্রতি বছর শত শত কিশোর আত্মহত্যা করে। বাবা-মা বলে “গাম্বারো” মানে “আরো কষ্ট করো”। মানসিক কষ্টের কথা বলার কালচার নাই।

অস্ট্রেলিয়ায় ২০২১ সালে ১৫ বছরের ছেলেকে গেমস খেলতে না দেওয়ায় বাবার সাথে ঝগড়া হয়। বাবা রাগের বশবর্তী হয়ে ছেলের মাথায় আঘাত করে। ছেলে মারা যায়। বাবা কোর্টে বলে “আমি শুধু শাসন করছিলাম”।

অভিভাবক বলেন, “আমি তো তোমার ভালোর জন্যই বলি”। কিন্তু ভালোর কথা বলার আগে ভালোবেসে শোনার সময়টুকু দেই কি?
সপ্তাহে একদিন ৩০ মিনিট “নো জাজমেন্ট টক” রাখুন। সন্তান কি ভাবছে, কি চাইছে, কোথায় কষ্ট পাচ্ছে — আগে শুন। তারপর শাসন করুন। বন্ধ দরজা দিয়ে কখনো আলো আসে না।

*২. রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন: এক মুহূর্তের রাগ সারাজীবনের কান্না*

বিজ্ঞান বলে, রাগের সময় আমাদের মস্তিষ্ক ৬ সেকেন্ডের জন্য যুক্তি বন্ধ করে দেয়। নির্জনার উপর সেই ৬ সেকেন্ডেই ৪টা বাড়ি পড়েছিল।

রাজশাহীতে ১০ টাকা চুরির অপরাধে বাবার মার খেয়ে ১০ বছরের শিশু মারা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফুটবলার বাবা ৪ বছরের ছেলেকে বেত দিয়ে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার যুক্তি ছিল, “আমি যেভাবে বড় হয়েছি”।

আমরা ভাবি, “একটা থাপ্পড় দিলে ঠিক হয়ে যাবে”। কিন্তু সেই থাপ্পড়ই শেষ থাপ্পড় হয়ে যায়।
রাগ উঠলে ১০ মিনিটের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে যান। পানি খান। নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমি কি শাসন করছি, নাকি প্রতিশোধ নিচ্ছি?”

মনে রাখবেন, ভয় দিয়ে সাময়িক বাধ্য করা যায়। ভালোবাসা দিয়ে আজীবনের মানুষ করা যায়।

*৩. সামাজিক চাপ: “লোকে কি বলবে” এর চেয়ে “আমার সন্তান বেঁচে আছে কিনা” সেটা বড়*

নির্জনার বাবা-মা লাশ কেন বস্তায় ভরলো? পুলিশকে কেন খবর দিলো না?
উত্তর একটাই — “পাড়ার লোকে কি বলবে”।

পাকিস্তানে বোন টিকটক করায় ভাই গলা টিপে হত্যা করেছে। “পরিবারের সম্মান” গেছে।
জর্ডানে ধর্ষণের শিকার মেয়েকে পরিবারই মেরে ফেলেছে। “কলঙ্ক” মুছতে।
আমাদের দেশেও “মেয়ে প্রেম করেছে” শুনলে অনেকে বলে, “ঠিকই আছে, শিক্ষা দেওয়া দরকার”।

কার সম্মান? যে বাবা-মা সন্তানকে মারে তার? নাকি যে সন্তান নিজের মতো বাঁচতে চায় তার জীবনের?
সমাজ কি বলবে ভেবে যদি আপনি সন্তানকে আঘাত করেন, তবে আপনি সন্তানকে বাঁচাচ্ছেন না। আপনি নিজের ইমেজ বাঁচাচ্ছেন।

আইন আছে। ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড। শিশু আইনে জেল। কিন্তু আইন দিয়ে ঘরের ভেতরের দরজা বন্ধ করা যায় না।

সন্তান আপনার সম্পত্তি না। তারা আলাদা মানুষ। আলাদা স্বপ্ন নিয়ে আসা আমানত।
আপনি শাসন করুন, কিন্তু বন্ধু হয়ে।
আপনি রাগ করুন, কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রেখে।
আপনি সমাজের কথা ভাবুন, কিন্তু সন্তানের জীবনের আগে না।

নির্জনা মরে যাওয়ার আগে ডায়েরিতে লিখেছিল, “আমি যদি মরে যাই, কেউ কি আমার জন্য কাঁদবে?”
হ্যাঁ মা। পুরো শহর কেঁদেছে।

সন্তান আপনার সম্পত্তি না। তারা আলাদা মানুষ। আলাদা মন, আলাদা স্বপ্ন নিয়ে আসা আমানত।

আপনি শাসন করুন। কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে।
আপনি রাগ করুন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রেখে।
আপনি সমাজের কথা ভাবুন। কিন্তু সন্তানের জীবনের আগে না।

একটা লাঠির ৪টা বাড়ি একটা জীবন শেষ করে দিতে পারে।
আর একটা বন্ধুত্বপূর্ণ কথা একটা জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

আর যেন কোনো বাবা-মাকে এই কান্না কাঁদতে না হয়।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।