গলাচিপায় চিকিৎসার নামে ‘মৃত্যুফাঁদ’: জসিম মুকুল ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু, ধামাচাপার অভিযোগ
পটুয়াখালীর গলাচিপায় চিকিৎসার নামে দিনের পর দিন অপচিকিৎসা ও রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ‘জসিম মুকুল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিক’। অনভিজ্ঞ চিকিৎসক আর হাতুড়েদের দিয়ে পরিচালিত এই ক্লিনিকটি স্থানীয়দের কাছে এখন এক মূর্তিমান ‘মৃত্যুফাঁদ’। সর্বশেষ সোমবার বিকেলে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত সুকৌশলে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, আজ বিকেলে ক্লিনিকটিতে একটি অস্ত্রোপচার (অপারেশন) চলাকালে চিকিৎসকের চরম অবহেলায় এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। কিন্তু ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন বা গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই পুরো ঘটনাটি আড়াল করে ফেলা হয়। মানুষের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাপটে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না কেউ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জসিম মুকুল হাসপাতালে অপচিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যু এবারই প্রথম নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে অনভিজ্ঞ ও নামসর্বস্ব চিকিৎসক দিয়ে জটিল সব রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করানো হচ্ছে। এর আগেও এখানকার ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে একাধিক রোগী গুরুতর ক্ষতি ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন।
ক্লিনিকে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে বা স্বজনরা চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের ওপর নেমে আসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের খড়গ। অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতাল সিন্ডিকেটের পেশিশক্তির ভয়ভীতি দেখিয়ে অথবা অর্থের বিনিময়ে জোরপূর্বক রফাদফার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়।
এতসব গুরুতর অভিযোগ ও দিনের পর দিন মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্যের মহোৎসব চললেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি ক্লিনিক কীভাবে বছরের পর বছর প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সাম্প্রতিক রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে জসিম মুকুল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।
অবিলম্বে এই ‘কসাইখানা’ খ্যাত জসিম মুকুল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের বিরুদ্ধে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম এখনই টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।



আপনার মতামত লিখুন