খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বর্ষা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় লক্ষণের বিরুদ্ধে বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৮ জুলাই

কে এম রাজীব, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে বর্ষা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় লক্ষণের বিরুদ্ধে বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৮ জুলাই

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকায় শিশু বর্ষাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি ঘটনার সাড়ে ৩ বছরের বেশি সময় পেড়িয়ে গেলেও অবশেষে বিচার কার্য শুরু হয়েছে। ২১ জুলাই মামলাটির শুনানির ধার্য্য তারিখে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারক মোস্তাক আহমদ চার্জ গঠনের মাধ্যমে একমাত্র আসামি মুদি দোকানের কর্মচারী লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে বিচার কার্য শুরুর করার আদেশ দিয়েছেন এবং আগামী ২৮ জুলাই থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমের তারিখ ধার্য্য করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান।

 

তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(২) ও দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস খুনের ১৯ দিনের মাথায় এবং চট্টগ্রামের বাকলিয়ার আলোচিত ৪ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ২৬ দিনের মাথায় বিচার কার্যক্রম শেষ করা গেলেও প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া বর্ষার বিচার শুরু হতে লেগে গেছে সাড়ে ৩ বছরের বেশি সময়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও ডিএনএ রিপোর্ট দাখিলে বিলম্বের কারণে চার্জশিট দাখিলও হয় বিলম্বে। এরই ধারাবাহিকতায় বিচারও বিলম্বে শুরু হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষে মামলাটি শীঘ্রই রায়ের জন্য প্রস্তুত হবে।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকালে নগরীর জামালখানের শিকদার হোটেলের পাশের গলির ভেতরে একটি মুদি দোকানের গুদামে পেঁয়াজের বস্তার উপরে পড়েছিল সাত বছর বয়সি শিশু বর্ষার মৃতদেহ। সেদিন অভিযুক্ত লক্ষণ দাশ শুধু যৌন কামনা চরিতার্থ করেনি, কান্নারত শিশু বর্ষার নাক মুখ, হাত চেপে ধরে মৃত্যুও নিশ্চিত করেছিল। মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে একটি বস্তায় বর্ষার লাশ ঢোকানো হয়। যে ১০০ টাকার লোভ দেখিয়ে গুদাম পর্যন্ত শিশু বর্ষাকে ডেকে নিয়েছিল সেই নোটটি রক্তে লাল হয়েছিল। মুদি দোকানের কর্মচারী লক্ষণ দাশ ১০০ টাকার নোটটিও বস্তায় ঢোকায়। বস্তার ভেতর বর্ষার কাপড়ও ভরে। গিঁট দেওয়ার পর পাশের নালায় বস্তাটি ফেলে দেয়। গুদামে ফিরে দেখতে পায়, পেঁয়াজের বস্তার পাশে পড়ে রয়েছে বর্ষার জুতা জোড়া। এটা তো প্রমাণ। প্রমাণ রাখা যাবে না। এটা ভেবে জুতা নিয়ে নালায় ফেলে দেয়। বর্ষাকে ধর্ষণ, শ্বাসরোধ করে খুন ও প্রমাণ গায়েবের অভিযোগে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এতে লক্ষণ দাশকে একমাত্র আসামি করা হয়। শিকদার হোটেলের পাশের শ্যামল স্টোরের কর্মচারী ছিল সে। স্টোরটির গুদামে শিশু বর্ষাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। চিপসসহ নানা কিছু কেনার জন্য শ্যামল স্টোরে প্রায় যেত বর্ষা। এ কারণে সে লক্ষণকে চিনত।

 

ঘটনার দিন গুদামের সামনে দাঁড়িয়েছিল লক্ষণ। তখন বর্ষা সম্ভবত দোকানের দিকে যাচ্ছিল। লক্ষণ তাকে বলে চিপস কিনতে ১০০ টাকার জন্য গোডাউনে আসো। পূর্ব পরিচিতির কারণে বর্ষা তার পিছু পিছু গোডাউনে গিয়েছিল। গুদামে আসার আগেই বর্ষার হাতে কথামতো ১০০ টাকার একটি নোট গুঁজে দেয় লক্ষণ, যা পরে রক্তাক্ত হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া চার্জশিটে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার তিন দিন পর শিকদার হোটেলের পাশের নালা থেকে বস্তাবন্দি বর্ষার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তদন্তে নামে। নানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজে ধরা পড়ে লক্ষণ দাশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে প্রেরণ করা হলে সে বর্ষাকে ধর্ষণ, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা, এমনকি বস্তায় ভরে লাশ নালায় ফেলার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ঘটনার পর বর্ষার মা ঝর্ণা বেগম বাদী হয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। লাশ উদ্ধারের পরে তিনি নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। লক্ষণ বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।