খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে তিনদিনে ১০৮ নাগরিক সমস্যার সমাধান দিলো ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যা

চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিনদিনে ১০৮ নাগরিক সমস্যার সমাধান দিলো ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যা

চট্টগ্রামে মাত্র তিনদিনের মধ্যেই ১০৮টি নাগরিক সমস্যার সমাধান করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম ” আমাদের চট্টগ্রাম ” অ্যাপ। এতে অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, যাচাই ও সমাধানে অ্যাপটির কার্যকারিতা ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হওয়ায় নাগরিকদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। অ্যাপটির ড্যাশবোর্ডের গতকাল ২১ জুলাই ৮টা ৯ মিনিটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৫৫২টি অভিযোগ ও আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১০৮টি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির জন্য কাজ অব্যাহত রেখেছে।

 

 

গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপের উদ্বোধন করেন। অ্যাপটির মাধ্যমে নগরবাসী ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, বর্জ্য অপসারণ, মশার প্রজননস্থল, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ছবি ও জিপিএস লোকেশন সংযুক্ত করে সরাসরি চসিককে জানাতে পারছেন। একই সঙ্গে লাইভ ট্র্যাকিং ও পারফরম্যান্স ম্যাপ সুবিধার মাধ্যমে অভিযোগের বর্তমান অবস্থা এবং সমাধানের অগ্রগতিও তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাচ্ছে, যা সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।

 

আমাদের চট্টগ্রাম অ্যাপ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অ্যাপটি চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই যেভাবে নাগরিকরা সাড়া দিয়েছেন এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১০৮টি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, তা প্রমাণ করে প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাই ভবিষ্যতের পথ। আমরা চাই নাগরিকদের প্রতিটি যৌক্তিক অভিযোগ দ্রুততম সময়ে সমাধান হোক এবং তারা ঘরে বসেই সেবার অগ্রগতি দেখতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ শুধু একটি অ্যাপ নয়, এটি নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন। স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি নগরবাসীকে অ্যাপটি ব্যবহার করে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা জানাতে এবং একটি বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাই।

 

মেয়র বলেন, ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মে হোল্ডিং ট্যাঙ, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন সনদের জন্য অনলাইন আবেদন, জরুরি সেবা, মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগসহ আরও বিভিন্ন নাগরিক সেবা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহরের বিভিন্ন সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সমাধান ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাপটির বিষয়ে চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি উন্নয়ন সংক্রান্ত পরামর্শ, জনমত গ্রহণ, ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা বিশ্লেষণ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও তৈরি হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তরের যাত্রায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।