খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের হেফাজতে মসজিদের ইমামের মৃত্যু

আলমগীর বাবু
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের হেফাজতে মসজিদের ইমামের মৃত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মিজানুর রহমান (৫৫) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমামের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে পুলিশ তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন পাটওয়ারীর জামাতা। তিনি স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও একটি মসজিদের পেশ ইমাম ছিলেন।

পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে কড়ৈতলী গ্রামের সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহর নির্দেশে এসআই নুরুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশের দাবি,গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে আসার পথে গাজীপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে মিজানুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জানান, ভোর প্রায় ৬টার দিকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় আনার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাকসুদুল হাসান বলেন, সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ একজন ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হাসপাতালে আনার সময় তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নিহতের শ্যালক ও সাবেক ইউপি সদস্য আলী হায়দার উজ্জ্বল বলেন, মিজানুর রহমান কড়ৈতলী বাইতুল হামদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম এবং রওশনআরা নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি রূপসা উত্তর ইউনিয়নের মজুমদার বাড়ির শরাফত আলী মাস্টারের ছেলে। ২০০১ সাল থেকে শ্বশুরবাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আবুল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে আসিফ ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা ফেসবুকে লাইভ করে এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। তাদের যোগসাজশেই পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে মানসিক নির্যাতন করেছে। এই অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই তিনি মারা গেছেন।

আলী হায়দার উজ্জ্বল আরও দাবি করেন, মরদেহে পুরুষাঙ্গে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়া গ্রেপ্তারের সময় ফজরের নামাজ আদায়ের সুযোগ চাওয়া হলেও পুলিশ তা দেয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

তবে পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর রাব্বীর উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৃত মিজানুর রহমানের পরিবার ও একালাবাসী বলেন একটি মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুলিশের গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।