খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গজারিয়ায় ভোটকেন্দ্রে হামলা ও পুলিশ সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! হোসেন্দী ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

গজারিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় ভোটকেন্দ্রে হামলা ও পুলিশ সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! হোসেন্দী ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের রক্তাক্ত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে হোসেন্দী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

​তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ মে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে হোসেন্দী ইউনিয়নের হোসেন্দী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক মো. আব্দুস শাফীউল আলম তদন্ত শেষে আসামিদের অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এই চার্জশিট দাখিল করেন।

​অভিযোগপত্রে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুকে (৪৮)। এছাড়া অভিযুক্ত অন্যান্য প্রধান আসামিরা হলেনঃ ভবানীপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিন (৬১) ও মমিন মৃধা (৪৩),বাজার হোসেন্দী গ্রামের সফিউল আলম সরকার রোকন (৪২),নতুন চর গ্রামের মাহাবুব মিয়া (৩৯), আ. জলিল মৃধা (৫৩), আরিফ হোসেন (৩৬), এনামুল হক ওরফে জুয়েল (৩৯), সফিউদ্দিন জমাদার (৪১), জিতু মৃধা (২৮); রঘুরচর গ্রামের মাসুম মিয়া (৪০), ওয়াসিম আকরাম (২৭), মহিউদ্দিন মোল্লা (৪৫); লস্করদী গ্রামের আরিফ ওরফে বাবু (২০); এবং ইসমানিরচর গ্রামের সংগ্রাম মোল্লা (৩০) ও আতাউর রহমান মুফতী (৩৫)।

​অভিযোগপত্রের বিবরণ থেকে জানা যায়, নির্বাচনের দিন দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুর নেতৃত্বে তাঁর সমর্থিত বাহিনী হোসেন্দী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ও সিল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বরত পুলিশের বাধায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। খবর পেয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।​পরবর্তীকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বদিউজ্জামান সরকারি গাড়িতে করে ফেরার পথে হোসেন্দী বাজারে পৌঁছালে চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুর প্রত্যক্ষ হুকুম ও নেতৃত্বে ১৫০–২০০ জনের একটি সশস্ত্র দল পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুর ছোঁড়া ইটের আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দেহরক্ষী কনস্টেবল শামীম হোসেনের মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়। একই সাথে চালক কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেনও মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। অন্যান্য আসামিরা শটগান থেকে গুলিবর্ষণ ও ককটেল ফুটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হামলাকারীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ব্যবহৃত সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলার এজাহার নামীয় আসামি মমিন মৃধা বলেন, “শুনেছি ডিবি চার্জশিট জমা দিয়েছে। আমরা জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

​বিষয়টি সম্পর্কে মুন্সীগঞ্জের কোর্ট পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমি যতদূর জানি কয়েক মাস আগে ডিবি আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। আদালত সেটি গ্রহণ করেছে এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান।”

​এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হোসেন্দী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের দলীয় পদে থাকা এবং মামলায় সাজা হলে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়তে পারেন তিনি।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।