রেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেলওয়ে কর্মীদের বিক্ষোভ
সরকারি দায়িত্ব পালনকালে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা সম্প্রতি সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট ছাড়া এসি কোচে ভ্রমণকে কেন্দ্র করে রেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (রাজস্ব) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোঃ জিয়াউল আহসান, সিনিয়র লোকোমাস্টার মোঃ আমিনুল ইসলাম এবং সিনিয়র টিটিই মোঃ গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বক্তারা জানান, গত ৭ আগস্ট ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে কয়েকজন যাত্রী টিকিট ছাড়া এসি কোচে ভ্রমণ করছিলেন। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে ন্যূনতম ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে নন-এসি কোচে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এতে ওই যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রেল কর্মকর্তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
পরে ট্রেনটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ দল রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) এএসআই ফজলুর রহমান আহত হন।
সরকারি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দায়িত্ব পালনের সময় রেলকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মানববন্ধন শেষে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী রেলভবনে গিয়ে শেষ হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ৭ আগস্টের ওই ঘটনার জেরে রাজশাহী মহানগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আসাম কলোনি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন