খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

অবশেষে পানিভর্তি ধানক্ষেতেই আদিবাসী নারী মেনোকার শেষ ঠিকানা

মো: আব্দুল বাতেন বাচ্চু
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
অবশেষে পানিভর্তি ধানক্ষেতেই আদিবাসী নারী মেনোকার শেষ ঠিকানা

জমি সংক্রান্ত বিরোধের নির্মম শিকার হয়ে মৃত্যুর পরও মেলেনি শেষ আশ্রয়ের সামান্য ঠাঁই। দাফনে বাধার মুখে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অবশেষে পানি সেচে ধানক্ষেতের কাদামাটিতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (মান্দাই কুজ) বৃদ্ধা নেনোকা রানীকে (৭০) দাফন করতে বাধ্য হয়েছে অসহায় পরিবারটি। রাতভর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের উপস্থিতিতে দফায় দফায় সালিস বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

​গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা।

মৃত মেনোকা রানী আক্তাপাড়া গ্রামের গোপালের স্ত্রী। বার্ধক্যজনিত কারণে গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। ১ শতক জমিতে বসবাস করা এই পরিবারটি মৃত্যুর পর সৎকারের কথা ভেবে চার বছর আগে প্রতিবেশী মৃত মফিজ উদ্দিনের পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতক জমি কেনে। মিউটেশন (খারিজ) জটিলতায় জমিটি রেজিস্ট্রি না হলেও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল।
​কিন্তু নেনোকা রানীর মৃত্যুর পর সেই জমিতে কবর খনন করতে গেলে মফিজ উদ্দিনের ছেলে ছফর উদ্দিন কবির ও তাঁর পরিবার লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেয় এবং জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে।
​২০ ঘণ্টার অপেক্ষা ও ধানক্ষেতে দাফন:
বাধার মুখে শেষকৃত্য আটকে গেলে বারান্দায় রাতভর মরদেহ রেখে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় স্বজনদের। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে স্থানীয় মেম্বার, সাবেক চেয়ারম্যান এবং শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দফায় দফায় সালিস বৈঠক করলেও বিবাদীদের একগুয়েমির কারণে কোনো সমাধান হয়নি।
​অবশেষে ঘটনার ২০ ঘণ্টা পর, বুধবার সকালে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পানিভর্তি ধানক্ষেতের পানি সেচে কাদামাটির ভেতরেই দাফন সম্পন্ন করেন স্বজনেরা।

নিহতের ছেলে শ্রী শুবিন্দ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিচু জাতের ও সংখ্যালঘু মানুষ বলেই কি আমার মায়ের লাশের এই অবমাননা? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক চেয়ারম্যান কিংবা থানা-পুলিশের দরজায় ঘুরেও কোনো বিচার পেলাম না। শেষ পর্যন্ত ২০ ঘণ্টা পর পানি সেচে ধানক্ষেতের কাদামাটিতেই মাকে মাটিতে পুঁতে দিয়ে আসতে হলো।”

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।