অবশেষে পানিভর্তি ধানক্ষেতেই আদিবাসী নারী মেনোকার শেষ ঠিকানা
জমি সংক্রান্ত বিরোধের নির্মম শিকার হয়ে মৃত্যুর পরও মেলেনি শেষ আশ্রয়ের সামান্য ঠাঁই। দাফনে বাধার মুখে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অবশেষে পানি সেচে ধানক্ষেতের কাদামাটিতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (মান্দাই কুজ) বৃদ্ধা নেনোকা রানীকে (৭০) দাফন করতে বাধ্য হয়েছে অসহায় পরিবারটি। রাতভর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের উপস্থিতিতে দফায় দফায় সালিস বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা।
মৃত মেনোকা রানী আক্তাপাড়া গ্রামের গোপালের স্ত্রী। বার্ধক্যজনিত কারণে গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। ১ শতক জমিতে বসবাস করা এই পরিবারটি মৃত্যুর পর সৎকারের কথা ভেবে চার বছর আগে প্রতিবেশী মৃত মফিজ উদ্দিনের পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতক জমি কেনে। মিউটেশন (খারিজ) জটিলতায় জমিটি রেজিস্ট্রি না হলেও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল।
কিন্তু নেনোকা রানীর মৃত্যুর পর সেই জমিতে কবর খনন করতে গেলে মফিজ উদ্দিনের ছেলে ছফর উদ্দিন কবির ও তাঁর পরিবার লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেয় এবং জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে।
২০ ঘণ্টার অপেক্ষা ও ধানক্ষেতে দাফন:
বাধার মুখে শেষকৃত্য আটকে গেলে বারান্দায় রাতভর মরদেহ রেখে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় স্বজনদের। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে স্থানীয় মেম্বার, সাবেক চেয়ারম্যান এবং শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দফায় দফায় সালিস বৈঠক করলেও বিবাদীদের একগুয়েমির কারণে কোনো সমাধান হয়নি।
অবশেষে ঘটনার ২০ ঘণ্টা পর, বুধবার সকালে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পানিভর্তি ধানক্ষেতের পানি সেচে কাদামাটির ভেতরেই দাফন সম্পন্ন করেন স্বজনেরা।
নিহতের ছেলে শ্রী শুবিন্দ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিচু জাতের ও সংখ্যালঘু মানুষ বলেই কি আমার মায়ের লাশের এই অবমাননা? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক চেয়ারম্যান কিংবা থানা-পুলিশের দরজায় ঘুরেও কোনো বিচার পেলাম না। শেষ পর্যন্ত ২০ ঘণ্টা পর পানি সেচে ধানক্ষেতের কাদামাটিতেই মাকে মাটিতে পুঁতে দিয়ে আসতে হলো।”



আপনার মতামত লিখুন