খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাজশাহীতে পিপিআরসির আঞ্চলিক যুব পরামর্শ সভা

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পিপিআরসির আঞ্চলিক যুব পরামর্শ সভা

রাজশাহীতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত আঞ্চলিক যুব পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় একদিকে তরুণরা কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নগরীতে এই পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, তরুণ উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক, যুব সংগঠক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সভায় তরুণরা শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরির আহ্বান জানান। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সীমিত, কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ কম, নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকট রয়েছে এবং নিয়োগে ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

 

অংশগ্রহণকারীরা বলেন,অনেক তরুণ ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ করলেও পর্যাপ্ত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান না। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের পরও রাজশাহীতে তা কাজে লাগানোর মতো ক্ষেত্র সীমিত। ফলে অনেককে ঢাকাসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে যেতে হচ্ছে।

 

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও যুবনেতা মোহাম্মদ শাকিল মন্ডল বলেন,পর্যাপ্ত স্কিল নিয়ে বের হওয়ার পরও আমরা সুযোগের অভাবে এগুলো স্থানীয়ভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। আমাদের ঢাকায় গিয়ে চাকরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

সভায় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা কতটি সনদ দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখছে।

 

 

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ডঃহোসেন জিল্লুর রহমান বলেন,আমরা হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে পারি,অসংখ্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালাতে পারি,কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো এগুলোর ফল কী হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা কি তাকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে নিয়ে গেল?

 

তিনি বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নকে শুধু বৃহৎ শিল্পায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ,রেশম, হস্তশিল্প, শিক্ষা,স্বাস্থ্যসেবা,পর্যটন ও সৃজনশীল শিল্পের মতো স্থানীয় সম্ভাবনাময় খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহীকে সিঙ্গাপুর,লন্ডন বা অন্য কোথাও হতে হবে না। রাজশাহীকে আরও উন্নত রাজশাহী হতে হবে।

 

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকট, নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির, নারীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী তরুণদের সুযোগের অভাব নিয়েও আলোচনা হয়।

 

একই দিন বিকেলে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে রাজশাহীর শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সফল উদ্যোক্তাদের নিয়ে আরেকটি রাউন্ড টেবিল ডিসকাশন করেন ডঃহোসেন জিল্লুর রহমান। এতে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিসহ শিল্প, পরিবহন, এগ্রোভিত্তিক চাষী ও ব্যবসায়ী,আইটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

 

সভায় ব্যবসায়ীরা রাজশাহী অঞ্চলে ব্যবসার সুবিধা, অসুবিধা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। কীভাবে অধিক কর্মসংস্থান বাড়ানো যায় এবং একটি সমৃদ্ধ নগরী গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক থেকে সহজলভ্য ঋণ, বিডার কার্যকর পদক্ষেপ, অতিরিক্ত ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপের জটিলতা নিরসনসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

 

উল্লেখ্য,দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত ‘Youth Economic Engagement in Post-Uprising Bangladesh: Opportunities, Entry Points and Institutional Barriers’ শীর্ষক গবেষণার অংশ হিসেবে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।