খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কবি নজরুলের সৃষ্টিকে আমরা লালন করতে চাই : জেলা প্রশাসক জাহিদ

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
কবি নজরুলের সৃষ্টিকে আমরা লালন করতে চাই : জেলা প্রশাসক জাহিদ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের পরিচিত জায়গাগুলোর অন্যতম ডিসি হিল। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এখানকার বিভিন্ন স্থাপনা জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কার ও এলাকাটি নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত পুরোনো মঞ্চকে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ডিসি হিলকে আরও সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটিকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে আমরা নতুনভাবে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারও সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম ডিসি হিলে নজরুল স্কয়ারে মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নজরুল স্কয়ারে মুক্তমঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, কবি নজরুলের সৃষ্টিকে আমরা লালন করতে চাই এবং সেই আঙ্গিকে নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষার্থীরা তরুণ প্রজন্মের অহংকার। তারা সাংস্কৃতিকে লালন-পালনের মাধ্যমে সংস্কৃতি চর্”া করেন। বিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি, দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি প্রতিটি ধর্ম, অনুষ্ঠান, দেশপ্রেম, আন্দোলন ও তরুণ সমাজের জন্য প্রাসঙ্গিক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়তে নজরুলকে শুধু স্মরণ নয়, তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।
ডিসি বলেন, ১৯২৬ সালে কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে ডিসি হিলে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর সেই অবস্থানের শতবর্ষে স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নজরুল চর্চার সুযোগ বাড়াতে মুক্তমঞ্চটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নজরুল এমন একজন কবি, যিনি মানবতাকে আরও বেশি প্রসারিত করেছেন। আমাদের নজরুলকে জানতে হবে, আরও বেশি জানতে হবে। নজরুল ধর্ম-বর্ণের বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির কথা বলেছেন। তিনি যেমন ইসলামী সংগীত রচনা করেছেন, তেমনি লিখেছেন শ্যামাসংগীত। তাঁর সৃষ্টিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের বার্তা রয়েছে। কবি নজরুলের সাহিত্য মানুষকে অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও তাঁর লেখনী মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও তাঁর সাম্য ও মানবিকতার দর্শন প্রাসঙ্গিক।
নজরুলের আপসহীনতার প্রসঙ্গ টেনে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কবি নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেননি। কোনো কিছুর কাছে তাঁর বিবেক কখনো পরাজিত হয়নি। পরাজিত বিবেক দিয়ে কোনো কিছু অর্জন করা যায়, কিন্তু সেই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

 

 

ডিসি হিলের সঙ্গে নজরুলের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ১৯২৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ঠিক ১০০ বছর পর আমরা সেই স্মৃতিকে অম্লান করে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম নজরুলকে ধারণ করবে, নজরুলকে লালন করবে। নজরুল যেভাবে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চেতনায় তরুণ সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।
তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সেই শিক্ষা দিতে পারে। আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম নজরুলকে ধারণ করবে, নজরুলকে লালন করবে। নজরুল যেভাবে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চেতনায় তরুণ সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।
নির্মাণকাজ শেষ হলে নজরুল মুক্তমঞ্চে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা চর্চার সুযোগ পাবেন এবং নতুন প্রজন্মও নজরুল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে।
জেলা প্রশাসকের আশা, নজরুলের ডিসি হিলে অবস্থানের শতবর্ষেও স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন মুক্তমঞ্চটি চট্টগ্রামের নজরুল চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নজরুল মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত ও নকশা ডিজাইনার স্থপতি প্রণব মিত্র। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মোঃ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেগণ উপস্থিত ছিলেন।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।