২৬ হাজার ডিমসহ পিকআপ ডাকাতি, সাত দিনে গ্রেপ্তার ৫
নরসিংদীর মনোহরদীতে ২৬ হাজার ১০০ পিস ডিমসহ মাহিন্দ্র পিকআপ ডাকাতির ঘটনার সাত দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্য ও লুণ্ঠিত মালামালের এক ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ, দেশীয় অস্ত্র, গামছা, লুণ্ঠিত মাহিন্দ্র পিকআপ, ডিমের ক্যারেট ও নগদ টাকা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মনোহরদী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ইটাখোলা-মঠখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা পিকআপ দিয়ে সড়কে বেরিকেড দিয়ে ডিমবোঝাই মাহিন্দ্র পিকআপের চালক তাজুল ইসলাম (৪৮) ও হেলপার শাহাদাত হোসেনকে (৪০) দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে।
পরে দুজনকে ডাকাতদের ব্যবহৃত পিকআপে তুলে নিয়ে অন্যত্র ফেলে দেওয়া হয়। ডাকাত দলের সদস্যরা ডিমবোঝাই মাহিন্দ্র পিকআপটি নিয়ে পালিয়ে যায়। লুণ্ঠিত ডিমের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৯৫ টাকা।
এ ঘটনায় পিকআপের মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৫ সেপ্টেম্বর ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে মনোহরদী থানা পুলিশের একটি দল নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আশিকুর রহমান, শিবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার ও মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার দিকনির্দেশনায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুর মহাসড়ক এলাকা থেকে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ, দেশীয় অস্ত্র ও গামছা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজারে অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মাহিন্দ্র পিকআপ, ডিমের ক্যারেট ও ডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকাসহ ক্রেতা জসিম উদ্দিনকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের মধ্যে দুজন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আরও পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় একই কায়দায় ডিমের গাড়ি ডাকাতির ঘটনায়ও তারা জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
উদ্ধার করা মালামাল
লুণ্ঠিত মালামাল:
মাহিন্দ্র পিকআপ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৯৬৭২।
৯৮ পিস ডিমের ক্যারেট।
ডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকা।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মালামাল:
মাহিন্দ্র পিকআপ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-২৯৯৮।
তিনটি রামদা, দুটি লোহার রড, একটি হাতুড়ি, দুটি স্ক্রু ড্রাইভার ও একটি তার কাটার প্লাস।
চারটি গামছা ও তিনটি মোবাইল ফোন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
১. ইমন (২৮), পিতা বাদশা মিয়া, বড় নগর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
২. মো. রিফাত হৃদয় (২৮), পিতা মো. মজিবুর রহমান, বড় নগর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
৩. আবদুল্লা আল মুন্না ওরফে রোমান (২৭), পিতা মো. জসিম উদ্দিন, গুনাইঘর, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
৪. রহমত আলী ওরফে জিন্তুর, পিতা মো. রাজা মিয়া, ভুইয়ার পাড়, ইটনা, কিশোরগঞ্জ। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে।
৫. জসিম উদ্দিন (৬০), পিতা মৃত আবু তাহের, বাবুপুর, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, সেনবাগ পৌরসভা, নোয়াখালী।



আপনার মতামত লিখুন