রাজশাহী পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে রাজশাহীতে সাপের আতঙ্ক চরাঞ্চল প্লাবিত,লোকালয়ে রাসেল ভাইপার রাত কাটছে নির্ঘুম
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীতে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। এরই মধ্যে নদীর কয়েকটি চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাপের আতঙ্ক।
স্থানীয়দের দাবি, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ স্থলভাগের দিকে উঠে আসছে। রাজশাহী নগরীর পদ্মা তীরবর্তী সীমান্ত অবকাশ এলাকাতেও বিষধর রাসেল ভাইপার দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সাপগুলো উঁচু ও নিরাপদ স্থানে উঠে আসছে এবং সেখান থেকে লোকালয় ও বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগেও এলাকায় এ ধরনের সাপের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি। পানি বাড়ার পর গত কয়েক দিনে বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিষধর সাপ দেখা গেছে।
এক কিশোর জানায়, পানির মধ্য থেকে বড় একটি সাপকে ডাঙায় উঠে আসতে দেখে সে। পরে ঘাটের কাছে সাপটি পড়ে থাকলে স্থানীয়রা সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। সাপটিকে রাসেল ভাইপার বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তার।
এক নারী বলেন, বড় একটি সাপ দেখেছেন তিনি। সেটিকে মারার চেষ্টা করা হলেও সেটি পালিয়ে যায়।
আরেক বাসিন্দা বলেন, পানি বাড়ার কারণে সাপগুলো লোকালয়ে চলে আসায় ভয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে সাপের কামড়ের আশঙ্কায় অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী শহরের পাশের ভারত সীমান্তঘেঁষা চর খিদিরপুর ও খানপুরসহ পদ্মার ওপারের বিভিন্ন চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শাহিদুল ইসলাম জানান, পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের আতঙ্কের মধ্যে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম প্রতিষেধক বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।



আপনার মতামত লিখুন