খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে এক টেবিলে ২৭ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনলেন জেলা প্রশাসক

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে এক টেবিলে ২৭ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনলেন জেলা প্রশাসক

কারও শরীর প্যারালাইসিসে অবশ, কারও প্রয়োজন অস্ত্রোপচার। কেউ কিডনি রোগের চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার অর্থের অভাবে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় এক বিধবা মা। কেউ এসেছেন জমিজমার বিরোধ নিয়ে, কেউ সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ জানাতে। সমস্যা ও জীবনের গল্প আলাদা হলেও বুধবার তাঁদের গন্তব্য ছিল এক—চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে সরাসরি নিজেদের অভাব, অভিযোগ ও সংকটের কথা তুলে ধরেন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর এলাকা থেকে আসা ২৫ জন। অনলাইনে যুক্ত হয়ে আরও দুই প্রবাসী তাঁদের সমস্যার কথা জানান।
সব মিলিয়ে ২৭ জনের কথা শোনেন জেলা প্রশাসক। প্রতিটি আবেদন ও অভিযোগ শোনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ফলাফল সেবাপ্রত্যাশীদের জানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

 

প্রশাসনিক নানা অভিযোগের ভিড়ে কয়েকটি আবেদন ছিল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কিংবা জীবনের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর আকুতি।
লাভলেইন-ঝাউতলা এলাকার শামসুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ও শয্যাশায়ী। দীর্ঘদিন বিছানায় থাকায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে। নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসক দেখানো ও ড্রেসিংয়ের খরচ বহন করতে হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়ের সঙ্গে থাকছেন তিনি। কিন্তু তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা মেয়ের পক্ষেও কঠিন হয়ে পড়েছে। গণশুনানিতে তাঁর কথা শুনে আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। বায়েজিদ বোস্তামীর কুলগাঁও এলাকার ৫১ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবদুর জব্বর দীর্ঘদিন ধরে পায়ুপথের টিউমারে ভুগছেন। আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় চিকিৎসা চালালেও এখন তাঁর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সেই ব্যয় বহন করার সামর্থ্য পরিবারের নেই। চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে সহায়তা চাইতে আসা জব্বরকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। চকবাজার-বাকলিয়া এলাকার মিন্টু মিয়া কিডনি রোগে আক্রান্ত। তাঁর আবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারে চিকিৎসার খরচ বহন করার মতো আর কেউ নেই। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু অর্থসংকটে সেই টাকা জোগাড় করতে পারছেন না। তাঁর পরিস্থিতি শুনেও সহায়তার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক।
খুলশীর ওয়ালের্স কলোনীর আক্তার হোসেন পাঁচ বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের পক্ষে কঠিন। গণশুনানিতে তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়েও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

 

 

অন্যদিকে, মুরাদপুরের রোসনা খাতুন এসেছিলেন মেয়ের বিয়ের জন্য সহায়তা চাইতে। সাপুড়িয়া সম্প্রদায়ের এই বিধবা নারীর তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ে ঠিক হলেও অর্থের অভাবে খরচ জোগাড় করতে পারছেন না। তাঁর দুর্দশার কথা শুনে মেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ছয়জন অসুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিকে চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গণশুনানিতে জমিজমার বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলসহ বিভিন্ন অভিযোগও আসে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। প্রতি বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সেখানে সরাসরি তাঁদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রবাসীদের জন্য রয়েছে অনলাইনে অংশ নেওয়ার সুযোগ। বুধবার সেই টেবিলে তাই একসঙ্গে জায়গা পেয়েছে জমির বিরোধ, প্রবাসীর সমস্যা, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার আকুতি এবং মেয়ের বিয়ে দিতে না পারা এক বিধবা মায়ের দুশ্চিন্তা। একেকটি আবেদন ছিল একেকটি জীবনের সংকটের গল্প—যা শুনে প্রশাসনিক নির্দেশনার পাশাপাশি জরুরি ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সহায়তাও দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।