খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

স্কুলে গেলে জেলে পরিবারের সন্তানদের প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ ডিসি জাহিদের

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
স্কুলে গেলে জেলে পরিবারের সন্তানদের প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ ডিসি জাহিদের

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, জেলে পরিবারের যেসব সন্তান নিয়মিত স্কুলে যাবে, তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলে জনগোষ্ঠীর জীবনমানে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার বিকেলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামের কাঠঘরে জেলেদের নিয়ে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

 

 

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের ভাগ্য, আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে চাই, একমাত্র যে মাধ্যম আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, সেটি হচ্ছে শিক্ষা। অন্যান্য অনেক জনগোষ্ঠীর জীবনমানে পরিবর্তন এলেও জেলে জনগোষ্ঠী এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম একইভাবে জীবনযাপন না করে জেলে পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও দক্ষতায় এগিয়ে নিতে হবে।জেলে পরিবারের শিশুদের জন্য স্বপ্নীল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। স্কুলটিতে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ, দরজা-জানালাসহ অন্যান্য উপকরণ দ্রুত সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুল দাঁড় করালাম, কিন্তু সেখানে আপনার সন্তানরা যদি না যায়, তাহলে কিন্তু হলো না। আপনাদের সন্তানদের পাঠাতে হবে।’
এরপর প্রণোদনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনাদের যাদের সন্তান স্কুলে পড়ালেখা করবে, তাদের জন্য আমরা ইনশাআল্লাহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার সন্তানটি নিয়মিত স্কুলে যায়।

 

 

মাছ ধরায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে উল্লেখ করে জেলে জনগোষ্ঠীকেও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর আহ্বান জানান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, জেলে পরিবারের সন্তানেরা ভবিষ্যতে একই পেশায় থাকলেও যেন আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আরও দক্ষ ও নিরাপদভাবে কাজ করতে পারেন, সে জন্য তাঁদের প্রস্তুত করতে হবে। জেলেদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনি যেভাবে আজকে কাজ করছেন, আপনার সন্তানটিও এভাবে কাজ করবে এই চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জেলেরা সাগরে কোথায় অবস্থান করছেন, পরিবারের সদস্যরা যেন তা জানতে পারেন—এমন প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
ইলিশকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এটি রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী বা নৌ পুলিশের নয়। জেলেসহ সবাইকে এ দায়িত্ব নিতে হবে।

 

 

তিনি বলেন, আমরা আমাদের ইলিশকে নিয়ে অবশ্যই গর্ব করি। আমরা চাই না যে আমাদের ইলিশ কোনোভাবে হারিয়ে যাক।
মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে—সরকার ও প্রশাসন এ বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত বলে জানান তিনি। জেলেদের সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার বিষয়টিও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বা জাটকা ধরার তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও নৌ পুলিশ সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে কাজ করবে। তবে শুধু অভিযান চালিয়ে ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। একা নেভি বা একা নৌ পুলিশের পক্ষে এটি সম্ভব নয়, যদি সবাই সচেতন না হয়।

 

জাটকা ধরার তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বেশি বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। জাটকাগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পেলে জেলেরা বেশি লাভবান হবেন এবং দেশের অর্থনীতিও এর সুফল পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বক্তব্যে জেলে পরিবারের স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, রোগে আক্রান্ত হলে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এ জন্য নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানি গ্রহণের পাশাপাশি বসবাসের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোনো এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সমস্যা থাকলে মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন। জেলে জনগোষ্ঠীর জীবনমানের পরিবর্তনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগ, শিক্ষা ও পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা যদি আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পরিশ্রম করেন, আমরা অবশ্যই আপনাদের পাশে আছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এক দিনে কোনো ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। এর জন্য শ্রম, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় লাগে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।