খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

উদ্বোধনের পর থেকে বিল বকেয়া, বিদ্যুৎহীন ডিমলার মিনি স্টেডিয়াম

মশিয়ার রহমান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
উদ্বোধনের পর থেকে বিল বকেয়া, বিদ্যুৎহীন ডিমলার মিনি স্টেডিয়াম

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার একমাত্র মিনি স্টেডিয়ামটি এখন বিদ্যুৎহীন। উদ্বোধনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি। বকেয়া বিলের কারণে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি স্টেডিয়ামটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এতে খেলোয়াড়, দর্শক, কর্মকর্তা, অতিথি ও আয়োজকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা।

ডিমলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত মিনি স্টেডিয়ামটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বৈদ্যুতিক সুবিধা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হচ্ছে।

গত (১৬ সেপ্টেম্বর) বুধবার প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা চলাকালে স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যানসহ সব বৈদ্যুতিক সুবিধা বন্ধ রয়েছে। এতে গরমের মধ্যে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শক, কর্মকর্তা ও অতিথিদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। মাইকসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন আয়োজকেরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্টেডিয়ামের পানির মোটরও চালানো যাচ্ছে না। ফলে খেলোয়াড়দের হাত-মুখ ধোয়া ও প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের মধ্যে খেলাধুলার পর পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

দিনের আলোয় কোনোভাবে কার্যক্রম চালানো গেলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের আলো না থাকায় মাঠ, দর্শক গ্যালারি, প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। সন্ধ্যা নামলেই পুরো স্টেডিয়াম এলাকায় অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর অন্ধকারের সুযোগে স্টেডিয়ামের দর্শক গ্যালারিতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এছাড়া মাঠের বিভিন্ন অংশেও বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যায়। আলো না থাকায় স্টেডিয়ামের ভেতরের কর্মকাণ্ডে নজরদারি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিরাপত্তা ও পরিবেশ দুটিই আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সন্ধ্যার পর স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সাধারণ মানুষও সেখানে যেতে ভয় পান। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখার জন্য নির্মিত এই স্থাপনাটি সন্ধ্যার পর আলোহীন হয়ে পড়া হতাশাজনক। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর পাশাপাশি স্থায়ী আলোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

মিনি স্টেডিয়ামে কাবাডি খেলতে আসা খেলোয়াড় লিলি আক্তার বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিভিন্ন আয়োজনের সময় খেলোয়াড়, আয়োজক ও অতিথিদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময় ফ্যান না চলায় ভোগান্তি আরও বেশি। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটরও চালানো যাচ্ছে না। ফলে খেলোয়াড়দের হাত-মুখ ধোয়া ও প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, “এই স্টেডিয়ামটি তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখার অন্যতম জায়গা। সন্ধ্যার পর আলো না থাকায় পরিবেশ ও নিরাপত্তা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা দরকার।”

খগারহাট এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, “বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন ও অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও অতিথিরা এখানে আসেন। বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

ডিমলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. মাসুদ আলম বলেন, বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে জিএম স্যারের মাধ্যমে জেলা পরিষদে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও চিঠি দেওয়া হয়। সরকারি রাজস্ব বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. রবিউল ইসলাম লিখন বলেন, “স্টেডিয়ামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে মাদকসেবী ও অনলাইন জুয়াড়িদের আড্ডা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। আলো থাকলে এসব কর্মকাণ্ডে নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হতো। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করে স্টেডিয়ামের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “মিনি স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়টি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বকেয়া বিল পরিশোধ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলার একমাত্র এই মিনি স্টেডিয়ামটি খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর এর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রীড়া স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি মাঠ, গ্যালারি ও প্রবেশপথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এতে স্টেডিয়ামটি আবারও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।