ফসলের মাঠে দ্যুতি ছড়াচ্ছে হলুদের আভা
নড়াইলের তিনটি উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুল। দূর থেকে সরিষার ক্ষেতগুলো দেখে মনে হয়, কে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সরিষার মাঠ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এ জেলায় সরিষার চাষ বেড়েছে। জেলায় এবছর তিনটি উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার ৪৬২ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। গত বছর সরিষার আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৮৮৮ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে উপজেলাওয়ারী সরিষার চাষ হয়েছে, নড়াইল সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ৫ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে। নড়াইল জেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার বলেন, “এবছর ১৭ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া গ্রামের কৃষক নাজমুল মোল্যা বলেন, “সরিষা চাষে একর প্রতি খরচ হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফলন হয়ে থাকে ৭-৮ মণ। প্রতি মণ সরিষার বাজার দর ৪ হাজার ২শ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫শ টাকা। তিনি আরও বলেন, গত বছর সরিষা চাষে আশানুরূপ লাভ হওয়ায় এবার তিন একর জমিতে সরিষার চাষ করেছি। মাঠে সরিষা ভালো দেখা যাচ্ছে, ফলন ও ভালো হবে। নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা সরিষা প্রশিক্ষণ অফিসার সৌমিত্র সরকার বলেন, “মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সরিষা চাষিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। উন্নত জাতের সরিষার চাষ ও আবাদ বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরিষা ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস মেয়াদি ফসল। বর্তমানে সরিষা চাষ কৃষকের লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। সরিষা চাষ একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা বাড়ায়, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



আপনার মতামত লিখুন