খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে আর কোনো দিন স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা স্বৈরাশাসকের উৎপত্তি হতে না পারে, সে জন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে যাতে তা টেকসই হয়। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পাহারা দেওয়ার জন্য কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আজ ঢাকায় শেরেবাংলা নগরস্থ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্ব— “স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল” শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে। তিনি বলেন, পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা ছিল বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদী শক্তি উত্থানের মূল কারণ। যা পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল, যেখানে এ দেশের ছাত্র-জনতা একতাবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটায়।

আমাদের পরবর্তী রাজনৈতিক ধারাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে জাতীয় অভিপ্রায় (People’s Will) প্রতিফলিত হয়। বিচার বিভাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারকদের কেবল স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়, বরং আইনের মাধ্যমে তাঁদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো অঙ্গই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক না হয়ে ওঠে। উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থা (পিআর পদ্ধতি) ও গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনার বিষয়ে বিরোধী দলসহ সকল পক্ষের সাথে টেবিল-আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চাই না। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের পারস্পরিক ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

“নতুন পথে প্রত্যাবর্তন”স্লোগানে সিরাজগঞ্জে সর্বহারা চরমপন্থী সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার এসআরবি-১২ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার মোট ৬৫ জন চরমপন্থী অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন, পাবনা জেলার ৪৫ জন এবং রাজবাড়ী জেলার ১৩ জন রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মোঃআহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃআশিক সাঈদ, পিপিএম।

অনুষ্ঠানে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন,চরমপন্থার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ। আত্মসমর্পণকারীদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হবে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরাধের পথ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ এসআরবি ফোর্সেসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।