খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ভারত কেন চীনের কাছে হারছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ভারত কেন চীনের কাছে হারছে

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর সমুদ্রবন্দরে দ্য পাইলট টাওয়ারে দাঁড়ালেই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার একটি স্পষ্ট চিত্র লক্ষ্য করা যায়। বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, এর একদিকে রয়েছে ভারত ও চীনের যুদ্ধজাহাজ নোঙর করার জায়গা। অন্যদিকে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল। আর পাশেই ভারতীয় আদানি গ্রুপের নির্মাণাধীন আরেকটি টার্মিনাল, যা ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৫৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান পেয়েছিল। এই প্রকল্পকে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর কৌশল হিসেবে দেখা হয়েছিল। এগুলো ছাড়াও ভারত করোনাকালীন সহায়তা, চীনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কৌশল কতটা সফল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত দেড় বছরে বাংলাদেশ, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায় ভারতপন্থি সরকারগুলো ক্ষমতা হারিয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকছে।

 

বাংলাদেশে ভারতের অবস্থান দুর্বল কেন?

বাংলাদেশ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। পাকিস্তান বহু আগে চীনের ঘনিষ্ঠ হলেও বাংলাদেশ ভারসাম্য বজায় রেখেছিল। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকার ভারতের মিত্র ছিল। ভারত তার ‘ক্রমবর্ধমান একনায়কতান্ত্রিক শাসন’কে উপেক্ষা করেছিল, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা আটকাতে লবিংও করেছিল। কিন্তু, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতের কৌশল ব্যর্থ হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের প্রতি ক্ষোভ বেড়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিপুল আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, চীন এরই মধ্যে দুই বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আরও পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তার আলোচনা চলছে। গত জানুয়ারিতে তার বেইজিং সফরে বেশ কিছু নতুন অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ব্যাপারে চীনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মোংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, যা আগে শেখ হাসিনার আমলে ভারত পেতে চেয়েছিল।

ভারত যেভাবে অবস্থান হারাচ্ছে

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত সাধারণত যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার নীতি অনুসরণ করতো। মোদীর নেতৃত্বে ভারত অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, যেমন শ্রীলঙ্কার ঋণ সংকটের সময় চার বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া। তবে, একই সঙ্গে শক্ত নীতিও অনুসরণ করেছে, যেমন- ২০১৫ সালে নেপালে অনানুষ্ঠানিক অবরোধ আরোপ করা। তবে এখন এ কৌশল ব্যর্থ হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিশানায়েকে প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে গেলেও তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছেন। গত জানুয়ারিতে তিনি চীনে গিয়ে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তেল শোধনাগার প্রকল্পের জন্য চুক্তি করেছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিও চীনে গিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

 

ভারত চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আদানি গ্রুপের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি হয়, যা এখন নতুন সরকার পুনর্মূল্যায়ন করতে চাচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় আদানি গ্রুপ বন্দর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প পেয়েছিল কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই। সেটি এখন সমালোচনার মুখে। নেপালেও আদানি গ্রুপ একটি বিমানবন্দর নির্মাণ এবং আরও তিনটি পরিচালনার জন্য লবিং করছে।

ভারতের সামনে উপায় কী?

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতকে এখন নতুন কৌশল নিতে হবে। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতকে শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেনন বলেন, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা পুরোনো কৌশলেই আটকে আছি। তার মতে, ভারতকে পারস্পরিক লেনদেনের নীতির বদলে অর্থনৈতিক একীকরণে মনোযোগী হতে হবে। আরেক সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ মনে করেন, ভারতকে কূটনীতিক বাড়ানো এবং সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। যতদিন ভারত নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ায় কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবে তা ঠিক করতে না পারছে, ততদিন প্রতিবেশীরা তাদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনকেই বেছে নেবে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।