মাদারগঞ্জে পাকরুল সূর্য্যমূখী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই
ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১:২০মিনিট। ৭ সেপ্টেম্বর মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের সূর্য্যমূখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক অফিস কক্ষে বসে গল্প করছেন। বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল চলে গেছে। হাজিরা খাতায় কোন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই। ক্লাসরুমও ফাঁকা একজন শিক্ষার্থীও নেই। তিনটি ক্লাসরুমে- র মধ্যে দুইটিতে ঝুলছে তালা। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, যার ফলে ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় অনুপস্থিতির কারণ চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পাকরুল সূর্য্য মূখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ার টেবিল, বেঞ্চ সবই আছে, নেই শুধু শিক্ষার্থী..! আাধা কিলোমিটার দুরত্বে সর্বগ্রাসী ভয়াবহ যমুনা নদী। এখানে থেমে নেই সর্বগ্রাসী যমুনা নদীর ভয়াবহ করাল ভাঙ্গনে প্রায় ৫০০ পরিবার ৩ ফসলি আবাদি শত শত একর জমি, বসতভিটা, গাছপালা হারিয়ে কেউ বা খোলা আকাশের নীচে, কেউ গুচ্ছ গ্রামে, কেউ বা আশ্রয় নেন বিভিন্ন এলাকায়। এরপরেও কি এখানে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা কি জরুরি ছিল.? নাকি সরকারের টাকা বেশি হয়েছে। তাহলে কেনই বা সরকারি কোটি কোটি টাকা খরচ করে একটি দ্বিতীয় তলা বিল্ডিং নির্মাণ করা হলো.?
এটা পাকরুল এলাকার আপামর জনসাধারণের প্রশ্ন.! প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে ২ জন সহকারী শিক্ষকের অনুপস্থিত থাকার বিষয় টি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ১ জন বিদ্যালয়ে আসেন নি। তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু জানেন না। অন্য ১ জন টিচার্স ট্রেনিং এ আছেন। পরে বাধ্য হয়ে ঐ ১ জন শিক্ষকে ফোন করে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে বলেন। কিছুক্ষনের মধ্যে ঐ শিক্ষক হাজির হলে তাদের মধ্যে উচ্চ বাক্য কথা কাটা কাটি শুরু হয়। সাংবাদিক কে দেখে টেবিল থেকে শিক্ষার্থী হাজিরা খাতা নিয়ে নিজে নিজে একটা করে নাম বলতে থাকে এবং শিক্ষার্থী হাজিরা খাতায় টিক চিহ্ন দিতে দেখা যায়। সাংবাদিক কে বুঝায় যে, শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসেছিল। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারের সবাই ক্ষুধা লাগায় বাড়িতে চলে যায়। বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষ ছাড়া তিনটি রুম রয়েছে। এর মধ্যে একটি রুম খোলা রয়েছে শিক্ষার্থী নেই। অপর দুইটি কক্ষ তালাবদ্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্কুল সংলগ্ন বাসিন্দা শাহালী প্রামাণিক বলেন,এখানে কোন শিক্ষার্থী নেই। স্কুলে শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থাকে না ।
এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী না থাকলেও সেখানে আরও একটি দ্বিতীয় তলা পাকা ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হবার পথে। যে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর অভাব, শিক্ষকের দেখা মিলে না । তবুও সেখানে সরকারি ক্ষাত থেকে নিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কেনই বা দ্বিতীয় ভবন নির্মাণ করা হলো.?
এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন.!
পাকরুল সূর্য্য মূখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৪ জন শিক্ষক। কাগজে কলমে হিসাব ঠিকই আছে। অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক ১ জন সহকারী শিক্ষক বসে বসে আনন্দ উজ্জীবিত হয়ে খোশ গল্প করতে দেখা যায়।
পাকরুল সূর্য্য মূখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ঢাকার ডাক কে বলেন, ছাত্র-ছাত্রী আসছিলো চলে গেছে। হাজিরা খাতায় ছাত্র-ছাত্রীর নেই কোন উপস্থিতি। সাংবাদিকদের দেখে হাজিরা খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর দেন প্রধান শিক্ষক। অথচ ক্লাসরুমে নেই কোন ছাত্র-ছাত্রী। চার জন শিক্ষকের মধ্যে দুই জন উপস্থিত রয়েছে। তিনটি ক্লাসরুমের মধ্যে দুইটিতে তালা ঝুলানো। এই হলো পাকরুল সূর্য্যমূখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি দিনের চিত্র।



আপনার মতামত লিখুন