চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসন : চিংড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এমএ হান্নানের জনপ্রিয়তার কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী
জাতীয় সংসদ নির্বাচন চাঁদপুর ৪ ফরিদগঞ্জের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা তুঙ্গে। চিংড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এমএ হান্নানের জনপ্রিয়তার কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ। হারুনুর রশিদ প্রথমবার এমপি হওয়ার পর কোনদিন এলাকাতে যাননি। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এমএ হান্নান দীর্ঘ ১৬টি বছর জেল জুলুম খেটেছে, জনগণের পাশে থেকেছে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে এলাকার উন্নয়নে জনগণের কল্যাণে, সে কারণেই তার জনপ্রিয়তা এত বেশি। অপরদিকে লায়ন মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী যিনি বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ সংঘের লাইভ মেম্বার। উনার জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। বিএনপি’র সমর্থন ছাড়া নির্বাচনে দাঁড়ালে তার নিজের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হবেন। জনতার রায় এমএ হান্নানের পক্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জামায়েত সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। স্থানীয় এলাকা ঘুরে এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম এবং পত্র-পত্রিকা থেকে যে বিষয়গুলো জানা যায় সেখানে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী লায়ন মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ একজন ধূর্ত এবং অতিশয় চালাক মানুষ। তার ধারণা সে বিএনপি’র সমর্থন পেয়েছে সে কারণে সে একটা বিশাল ভারী জিনিস অর্জন করেছে মানুষ এই কারণেই তাকে ভোট দিবে। প্রকৃত অর্থে এটা সঠিক নয়, তার ধারণা ভুল। তিনি নিরপেক্ষ এবং যারা তার মতামতের আদর্শের বিপরীতে তাদেরকে হামকি ধমকি দিয়ে, অফিস, মাইক ভাঙচুর করে, বয়োবৃদ্ধ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারকে হত্যা করার জন্য নিদারুণ ভাবে জখম করেছে। সেই কাদের মেম্বার এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এলাকার স্থানীয় গুন্ডা পাণ্ডাদের লেলিয়ে ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের এক নাম্বার ওয়ার্ডের বয়বৃদ্ধ ডাক্তার যিনি হারু ডাক্তার নামে পরিচিত তাকে মারধর করেছেন এবং যুবদলের নেতা বিশিষ্ট ফার্নিচার ব্যবসায়ী শাহ আলম হোসেন উজ্জ্বল মিজিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে এবং বেধড়ক মেরেছে। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় প্রথমে অভিযোগ এবং পরে জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারি রিটার্নিং অফিসার ফরিদগঞ্জকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থে নির্বাচনে জেতার কৌশল যদি মারামারি হয়, গুন্ডা পান্ডা দিয়ে হামকি ধমকি দেয়া হয় সেই ক্ষেত্রে বুঝতে হবে ওই প্রার্থী খুবই দুর্বল এবং জনপ্রিয়তাশূন্য। জাতীয় রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী দলের উচ্চ মহলকে যেকোনোভাবেই হোক ম্যানেজ করে হারুনুর রশিদ মনোনয়ন বাগিয়ে নিলেও প্রকৃত পক্ষে ত্যাগ এবং সার্বিক দিক বিবেচনায় এর হকদার ছিল আলহাজ্ব এমএ হান্নান। এলাকার জনগণের একটাই বুলি, দল ভুল করতে পারে কিন্তু এলাকার জনগণ? তারা ভুল করবে না। তারা তাদের প্রকৃত জননেতাকেই বেছে নিবেন এবং ১২ তারিখ ফলাফল ঘোষণার পরেই জনাব এমএ হান্নান তারেক বিএনপি চেয়ারম্যান রহমানের কাছে নিজেই উপস্থিত হবেন তার বিজয়ের মালা জনাব তারেক রহমান সাহেবকে পরিয়ে দেয়ার জন্য। এলাকার জনগণ এমনটিই ভাবছেন। কারণ হান্নান এবং হারুন তারা দুজনই জাতীয়তাবাদী দলের লোক। পরিস্থিতির কারণে এলাকার জনগণ হারুন সাহেব কে গ্রহণ করতে নারাজ। তাই জনগণ আশা করছে, এ সব ব্যাপারে বিএনপি’র উচ্চ মহল যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন, এলাকার মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি বন্ধ করেন। অন্যথায় নিজেরা নিজেরা মারামারি হানাহানি হবে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকার জনগণ মনে করেন এখনই যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমনও হতে পারে ভোটের দিন ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করছেন নিরীহ জনগণ যারা ভোট দিতে চায়। প্রকৃত অর্থে বহুদিন পর জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে চায়। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার, ভোট দেয়ার এবং সকল প্রার্থী সুষ্ঠু প্রচারণা করবে ভোটাররা এটাই আশা করেন। ভোট দিতে জোর করা, কাউকে প্রলোভন দেওয়া, এক ভোটে ১০ হাজার টাকা আবার কোথাও কোথাও কবরস্থানের মাটি ভরাট করে দেয়ার মত প্রতিশ্রুতি ও দিচ্ছেন লায়ন মোহাম্মদ হারুনের প্রচারে নিয়োজিত লোকজন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চাই সুষ্ঠু প্রচারণা। এই প্রচারণার জন্য দরকার সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ, কিন্তু বল প্রয়োগ করা, মারামারি হানাহানি করা এই ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না বলে মনে করেন এলাকার নিরীহ ভোটারগণ। সকল প্রার্থী তাদের সুষ্ঠু প্রচারণা চালাবে, কেউ বাধা বিঘ্নের সৃষ্টি করবে না। প্রশাসনের, নির্বাচন কমিশনের উচিত এ বিষয়গুলো তদারক করা। অন্যথায় সুষ্ঠু নির্বাচন তো দূরের কথা, নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এটা তো শুধু উপজেলার একটি আসনের কথা। সারা বাংলাদেশেই এরকম বল প্রয়োগের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিনিয়তই দেখা যাচ্ছে। দেশের জনগণ আশা করেন হয় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। অন্যথায় নির্বাচন বন্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সুনিশ্চিত করবেন তখনই নির্বাচন দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সকল দলের এবং মতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। এটাই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা দেশের সাধারণ ভোটারদের।



আপনার মতামত লিখুন